সারাদেশে হাম এবং হামের তীব্র উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত শিশুদের মৃত্যুর মিছিল দিন দিন আরও দীর্ঘ ও আশঙ্কাজনক হচ্ছে৷ প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের ছোবলে দেশজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের তীব্র উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ৩টি নিষ্পাপ শিশুর করুণ মৃত্যু হয়েছে৷ একই সময়ে নতুন করে আরও ১ হাজার ১০৬ জনের শরীরে হাম ও এর নানা জটিল উপসর্গ শনাক্ত পাওয়া গেছে৷ আজ সোমবার (৬ জুলাই) সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত ও সর্বশেষ কন্ট্রোল রুমের প্রতিবেদনে এই রানিং ও উদ্বেগজনক তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে৷

২৪ ঘণ্টার মৃত্যু ও নতুন আক্রান্তের পরিসংখ্যান: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে— গত একদিনে হামের তীব্র উপসর্গ নিয়ে দেশের ঢাকা, রাজশাহী ও সিলেট বিভাগে একজন করে মোট ৩ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে৷ তবে এই ২৪ ঘণ্টার রানিং সময়ে সরাসরি ল্যাব টেস্টে হাম পজিটিভ হওয়া কারও মৃত্যু হয়নি; ৩ জনই মারা গেছেন হামের তীব্র উপসর্গ নিয়ে৷ সবমিলিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে আজ সোমবার (৬ জুলাই) পর্যন্ত সারাদেশে হাম ও এর মারাত্মক উপসর্গে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৪১ জনে, যার সিংহভাগই শিশু৷

এদিকে দেশের সার্বিক মহামারি পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে— সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে সম্পূর্ণ ল্যাব টেস্টের মাধ্যমে ১৫৯ জনের শরীরে সরাসরি হাম ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে৷ পাশাপাশি এই একই সময়ে আরও ৯৪৭ জন শিশুর মধ্যে হামের তীব্র প্রাথমিক উপসর্গ দেখা গেছে৷ এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে আজ সোমবার পর্যন্ত মোট ১ লাখ ৬ হাজার ৫৬৫ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে৷ সেই সঙ্গে এই চার মাসেরও কম রানিং সময়ে দেশে মোট ১২ হাজার ৭৯১ জনের শরীরে সরাসরি ল্যাব পরীক্ষার মাধ্যমে হাম শনাক্ত হয়েছে৷

হাসপাতালে ভর্তির রেকর্ড ও সুস্থতার হার: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ কন্ট্রোল রুমের প্রতিবেদন অনুযায়ী— গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে আজ সোমবার পর্যন্ত সারাদেশে হাম ও এর বিভিন্ন জটিল উপসর্গ নিয়ে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে মোট ৮৯ হাজার ৭৩৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন৷ হাসপাতালগুলোতে শিশু রোগীদের শয্যা পেতে রানিং বেগ পেতে হচ্ছে৷ তবে স্বস্তির খবর হলো— আক্রান্তদের মধ্যে উন্নত চিকিৎসা শেষে এ পর্যন্ত সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে রানিং ছাড়পত্র (ডিসচার্জ) পেয়ে ঘরে ফিরে গেছেন ৮৬ হাজার ৬২ জন রোগী৷ চিকিৎসকেরা সাধারণ অভিভাবকদের সতর্ক করে বলেছেন— শিশুদের শরীরে জ্বর, সর্দি ও লালচে র‍্যাশ দেখা দিলেই অবহেলা না করে অনতিবিলম্বে নিকটস্থ টিকাদান কেন্দ্র বা হাসপাতালে রানিং যোগাযোগ করতে হবে৷

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *