দেশের বাজারে মহামূল্যবান অলঙ্কার ধাতু স্বর্ণের মূল্যে আবারও বড় ধরনের পতন ঘটেছে৷ গত ৩ জুলাইয়ের রেকর্ড মূল্যের পর টানা দুই দফায় স্বর্ণের দাম কমানোর পর আজ আবারও ভরিতে ৩ হাজার ৩২৪ টাকা কমিয়ে নতুন মূল্য নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)৷ বাজুসের নতুন এই রানিং সিদ্ধান্তের ফলে দেশের বাজারে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম কমে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২১ হাজার ৯৬৬ টাকা৷ আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল ১০টা থেকেই দেশের সমস্ত জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে মূল্যবান এই অলঙ্কারটি নতুন এই হ্রাসকৃত মূল্যে বিক্রি শুরু হয়েছে৷
তেজাবি স্বর্ণের দাম হ্রাস ও বাজুসের রানিং বিজ্ঞপ্তি: আজ বৃহস্পতিবার সকালে বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটির অফিশিয়াল বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে— দেশের স্থানীয় বাজারে খাঁটি বা তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে৷ তাই সার্বিক বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ বাজার পরিস্থিতি নিখুঁতভাবে বিবেচনা করে ভ্যাটসহ স্বর্ণের এই নতুন দাম পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে৷
নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী— দেশের বাজারে এখন থেকে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ২১ হাজার ৯৬৬ টাকা৷ এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৯৯৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ baggy হাজার ৭৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৭৭৪ টাকা৷ বাজুস স্পষ্ট জানিয়েছে— পরবর্তী নির্দেশনা বা ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সমস্ত জুয়েলারি দোকানে এই নতুন দাম কঠোরভাবে কার্যকর থাকবে৷ তবে অলঙ্কারের ডিজাইন বা নকশা অনুযায়ী কারিগরদের মজুরি এর সাথে আলাদাভাবে যুক্ত হবে৷ যেহেতু বিক্রয়মূল্যের মধ্যেই ভ্যাট সুনির্দিষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, তাই জুয়েলার্সগুলো গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদা করে কোনো ভ্যাট আদায় করতে পারবে না৷ এ ছাড়া সুনির্দিষ্ট ভ্যাট, মজুরি ও পাথর বাদ দিয়ে অলঙ্কার এক্সচেঞ্জ (বদল) ও পারচেজের (ক্রয়) ক্ষেত্রে সংগঠনের আগের নিয়মগুলোই বহাল থাকবে৷ রুপার অলঙ্কারের ভ্যাটের বিষয়ে শিগগিরই নতুন সিদ্ধান্ত জানানো হবে৷
স্বর্ণের দাম সমন্বয়ের রেকর্ড ইতিহাস: এর আগে সর্বশেষ গত ৬ জুলাই সকালে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন৷ সেদিন প্রতি ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৫ হাজার ২৯০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল, যা কার্যকর হয়েছিল সেদিন দুপুর সোয়া ১২টা থেকেই৷ অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন— বৈশ্বিক বাজার ও ডলারের রানিং হারের কারণে চলতি ২০২৬ সালে এ পর্যন্ত দেশের বাজারে রেকর্ড ৮৮ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হলো, যার মধ্যে ৪৩ দফা দাম বাড়ানো হয়েছে, কমানো হয়েছে ৪৪ দফা এবং মাত্র ১ দফা ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে৷ আর বিগত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল; যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৯ বার৷
স্বর্ণের সাথে রুপার দামেও বড় পতন: দীর্ঘদিন অপরিবর্তিত থাকার পর স্বর্ণের সঙ্গে এবার দেশের বাজারে এক ধাক্কায় কমানো হয়েছে রুপার দামও৷ ভরিতে ২৯২ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ৬০৭ টাকা৷ এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৭৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ২ হাজার ৮৫৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে৷ এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে রেকর্ড ৫৪ দফা সমন্বয় করা হলো রুপার দাম, যেখানে দাম ২৭ দফা বাড়ানো হয়েছে এবং কমানো হয়েছে বাকি ২৭ দফা৷ আর বিগত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ১৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল রুপার দাম, যার মধ্যে বেড়েছিল ১০ বার আর কমেছিল মাত্র ৩ বার৷ পর পর স্বর্ণ ও রুপার দাম কমায় রানিং বিয়ের মৌসুমে গ্রাহকদের মধ্যে ব্যাপক স্বস্তি ফিরে এসেছে৷
