কক্সবাজারে পাহাড়ধসে ৮ মাদরাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে জামায়াতের গভীর শোক

কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের (রোহিঙ্গা ক্যাম্প) একটি মাদরাসায় টানা ভারী বর্ষণের ফলে সৃষ্ট ভয়াবহ পাহাড়ধসে ৮ জন নিষ্পাপ শিক্ষার্থীর নির্মম মৃত্যু এবং আরও অনেকের মাটির নিচে চাপা পড়ার ঘটনায় গভীর শোক, দুঃখ ও তীব্র সমবেদনা জ্ঞাপন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী৷ আজ বুধবার (৮ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিশেষ বিবৃতিতে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার এই গভীর শোক প্রকাশ করেন৷ বিবৃতিতে তিনি মাটির নিচে আটকে পড়া নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের দ্রুততম সময়ে জীবিত উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট উদ্ধারকারী কর্তৃপক্ষকে রানিং ও বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন৷

অনাকাঙ্ক্ষিত ট্র্যাজেডি ও উদ্ধার অভিযান নিয়ে উদ্বেগ: বিবৃতিতে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন— “আজ বুধবার দুপুরে টানা মুষলধারে বৃষ্টির কারণে কক্সবাজারের উখিয়ায় পাহাড়ধসে রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে ৮ জন মাদরাসা শিক্ষার্থীর অকাল মৃত্যু এবং আরও অনেক শিক্ষার্থীর মাটির নিচে জ্যান্ত চাপা পড়ার ঘটনাটি অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত, মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক৷ আমি এই ভয়াবহ হতাহতের ঘটনায় গভীরভাবে শোকাহত ও মর্মাহত৷ আমি নিহতদের রূহের মাগফিরাত এবং দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি৷ একই সাথে নিহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্য ও চিকিৎসাধীন আহতদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি৷”

তিনি আরও উল্লেখ করেন— পাহাড়ধসে মাটির নিচে চাপা পড়ে নিখোঁজ থাকা শিক্ষার্থীদের উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিস (Fire Service) ও স্থানীয় সাধারণ মানুষ বুকের তাজা রক্ত ও প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন৷ কিন্তু প্রতিকূল আবহাওয়া ও টানা বৃষ্টির কারণে এই রানিং উদ্ধার কাজ অত্যন্ত কঠিন ও বিপজ্জনক হয়ে পড়েছে৷ এই পরিস্থিতিতে মাটির নিচে আটকে পড়া শিক্ষার্থীদের অতি দ্রুত উদ্ধার করতে আধুনিক ও প্রয়োজনীয় সব ধরনের বিশেষ ব্যবস্থা নিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট উদ্ধারকারী কর্তৃপক্ষের প্রতি জরুরি আহ্বান জানাচ্ছি৷

রোহিঙ্গা মৃত্যুর মূল কারিগর মিয়ানমারের জান্তা সরকার: উখিয়া ও টেকনাফে একের পর এক সংগঠিত পাহাড়ধসের ঘটনায় রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মৃত্যুর পেছনের মূল ভূ-রাজনৈতিক কারণ তুলে ধরে মিয়া গোলাম পরওয়ার স্পষ্ট ভাষায় বলেন— “একের পর এক পাহাড়ধসের ঘটনায় যেসব রোহিঙ্গা শরণার্থীর অকাল মৃত্যু হচ্ছে, এর জন্য মূলত মিয়ানমারের সামরিক জান্তা সরকারই সরাসরি দায়ী৷ জান্তা সরকার রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর দীর্ঘদিনের পদ্ধতিগত ও অমানবিক নিপীড়নমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তাদের জোরপূর্বক তাড়িয়ে দিয়ে বাংলাদেশের পাহাড়ের এই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে শরণার্থী হিসেবে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য করেছে৷” তিনি রোহিঙ্গাদের নিজ মাতৃভূমিতে মর্যাদাপূর্ণ ও নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করার জন্য জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং বৈশ্বিক মানবাধিকার সংগঠনসমূহের প্রতি আরও দৃঢ় ও কার্যকর রানিং পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানান৷

জরুরি রাষ্ট্রীয় সহায়তা ও নিরাপদ স্থানান্তরের আহ্বান: প্রাকৃতিক দুর্যোগে এতগুলো তাজা শিক্ষার্থীর প্রাণহানিকে দেশের এক অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে উল্লেখ করে জামায়াত নেতা বলেন— “এই চরম ক্ষতিগ্রস্ত ও শোকগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সার্বিক রাষ্ট্রীয় আর্থিক সহযোগিতা প্রদানের জন্য আমি সরকারের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি৷” একই সঙ্গে কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটিসহ দেশের সমস্ত পার্বত্য জেলাসমূহে পাহাড়ের পাদদেশে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বসবাসকারী স্থানীয় আদিবাসী, বাঙালি বাসিন্দা ও রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতে অবিলম্বে দুর্যোগপূর্ব রানিং সতর্কতা জারি করার আহ্বান জানান তিনি৷ বর্ষা মৌসুমের এই বিপজ্জনক সময়ে বড় কোনো ট্র্যাজেডি ঘটার আগেই তাদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের প্রতি জরুরি আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *