২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বিশ্ব ফুটবলের দুই পরাশক্তি আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড৷ আগামী বুধবার (১৫ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ব্লকবাস্টার মহারণকে ঘিরে মাঠের লড়াই শুরুর আগেই মাঠের বাইরে কথার পারদ চড়তে শুরু করেছে৷ বিশেষ করে ইংলিশ ফুটবল অঙ্গনে সাবেক তারকাদের একের পর এক নানামুখী পূর্বাভাস ও মন্তব্যে পরিস্থিতি এখন বেশ উত্তপ্ত৷ তবে সমস্ত আত্মবিশ্বাস আর কথার ঝাঁজে সবাইকে যেন ছাড়িয়ে গেছেন ইংল্যান্ডের সাবেক মিডফিল্ডার জো কোল৷ বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে ‘ঘুম পাড়িয়ে’ বিদায় করে ইংল্যান্ড সোজা ফাইনালে উঠবে— এমন এক বিস্ফোরক হুংকার দিয়েছেন সাবেক এই চেলসি তারকা৷ আন্তর্জাতিক ক্রীড়া গণমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টসের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে৷
মেসিকে থামানোর আত্মবিশ্বাসী ছক: বিশ্বকাপের এই সেমিফাইনাল নিয়ে সম্প্রতি গ্যারি লিনেকার, অ্যালান শিয়্যারার ও মিকা রিচার্ডসের সঙ্গে নেটফ্লিক্স স্পোর্টসের একটি বিশেষ টকশোতে খোলামেলা আলোচনা করছিলেন জো কোল৷ ইংল্যান্ড জাতীয় দলের হয়ে দীর্ঘদিন খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে এই প্যানেলের সবারই৷ আলোচনার একপর্যায়ে যখন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লিওনেল মেসির প্রথম ম্যাচের প্রসঙ্গটি আসে, ঠিক তখনই আর্জেন্টাইন জাদুকরকে থামানোর বিষয়ে অতিমাত্রায় আত্মবিশ্বাসী শোনান কোল৷ মেসিকে নিয়ে জো কোল সরাসরি বলেন— ‘ঠিক আছে, তাকে মাঠে ঘুম পাড়িয়ে দিতে হবে৷ আমরা তাকে পুরোপুরি ঘুম পাড়িয়ে দেব৷ হ্যাঁ, শতভাগ নিশ্চিত৷’
২০০২, ২০০৬ ও ২০১০ বিশ্বকাপে থ্রি-লায়নসদের হয়ে মাঠ কাঁপানো কোলের এমন অতি-আত্মবিশ্বাসী মন্তব্য শুনে অনুষ্ঠানের বাকি সাবেক তারকারা দ্রুত তাঁকে সতর্ক করার চেষ্টা করেন৷ মেসি যদি সেমিফাইনালে আবারও নিজের চেনা জাদু দেখান, তবে এই মন্তব্যই যে পরে কোলের জন্য বড় ধরনের অস্বস্তির কারণ হতে পারে, সেটি মনে করিয়ে দিয়ে লিনেকাররা বলেন— ‘এখনই এটা বলো না৷ আট মাস পর আমরা এই কথাটা আবার বলব৷’ তবে এই সতর্কবার্তাতেও দমে যাননি কোল৷ বরং নিজের ভবিষ্যদ্বাণীকে আরও জোরালো করে তিনি বলেন— ‘আমি এখনই বুক ঠুকে বলছি— আমরাই এবার বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠব৷’
নেভিলের দৃষ্টিতে ‘সেরা-খারাপ’ রক্ষণ জুটি: আর্জেন্টিনাকে বিদায় করার কাজটা যে থমাস টুখেলের শিষ্যদের জন্য মোটেও সহজ হবে না, সেটি অবশ্য অকপটে স্বীকার করেছেন সাবেক ইংলিশ ডিফেন্ডার মিকা রিচার্ডস৷ বড় ম্যাচ কীভাবে জিততে হয় তা মেসিরা খুব ভালো করেই জানেন উল্লেখ করে তিনি আর্জেন্টিনার ফুটবলারদের ‘চতুর’ বলে অভিহিত করেন৷ তবে এরপরও টুখেলের দলের ফুটবলারদের গতিকে প্রধান অস্ত্র মেনে রিচার্ডস বলেন— ‘আর্জেন্টিনার শক্তির বিপরীতে আমাদের দলের গতি অনেক বেশি৷ আমরা তাদের হারাব, আমি এটা মনেপ্রাণে অনুভব করছি৷’
এদিকে, আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড দ্বৈরথ নিয়ে স্কাই বেটের ধারাভাষ্যকার গ্যারি নেভিলের আলোচনাতেও উঠে এসেছে আলবিসেলেস্তেদের রক্ষণভাগ নিয়ে এক মজার বিশ্লেষণ৷ আর্জেন্টিনার দুই সেন্টারব্যাক ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো ও লিসান্দ্রো মার্টিনেজের পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতার চরম অভাব দেখছেন নেভিল৷ তাঁর মতে, একই ম্যাচে অসাধারণ ডিফেন্ডিং করার পাশাপাশি অবিশ্বাস্য সব ভুল করতে ওস্তাদ এই জুটি৷ নেভিল মজার ছলে তাদের ‘বিশ্বের সেরা-খারাপ সেন্টারব্যাক জুটি’ আখ্যা দিয়ে বলেন— ‘এক মুহূর্তে তারা একেবারে অসাধারণ, সব হেড জিতছে এবং মাঠের সর্বত্র উপস্থিত থাকছে, আর পরের মুহূর্তেই দুর্দান্ত অবস্থা থেকে হাস্যাস্পদ পর্যায়ে নেমে গিয়ে গোল উপহার দিচ্ছে৷ ওই জার্সি পরলেই তাদের মধ্যে অদ্ভুত কিছু ঘটে যায়৷’ সব মিলিয়ে আটলান্টার সেমিফাইনাল মাঠে গড়ানোর আগেই কথার এই হাইভোল্টেজ যুদ্ধ ফুটবল ভক্তদের মাঝে উন্মাদনা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে৷
