ইরানের আইআরজিসি ও রুশ গোয়েন্দা সংস্থাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা; সংশ্লিষ্টতায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস-কে (আইআরজিসি) নিজেদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সরাসরি এক চরম হুমকি হিসেবে ঘোষণা দিতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য সরকার৷ ব্রিটিশ প্রশাসনের এই অত্যন্ত সংবেদনশীল ও কঠোর সিদ্ধান্তটি চূড়ান্তভাবে কার্যকর হলে, এই প্রভাবশালী সামরিক সংগঠনের সাথে কোনোভাবে সংশ্লিষ্টতা থাকা ব্যক্তিরা যুক্তরাজ্যে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের মতো ভয়াবহ আইনি শাস্তির মুখোমুখি হতে পারেন৷ আজ সোমবার (১৩ জুলাই) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক বিশেষ ও বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে৷

যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় আরও যারা: ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে— শুধু ইরানের আইআরজিসি-ই নয়, ইরান-সংশ্লিষ্ট আরও একটি কট্টরপন্থী সংগঠন ‘ইসলামিক মুভমেন্ট অফ কম্প্যানিয়ন্স অফ দ্য রাইট’-কেও একই বিপজ্জনক তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে৷ এই সংগঠনটির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্টভাবে ইহুদি ও ইসরায়েলি সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে অন্তত সাতটি বড় ধরনের হামলার দায় স্বীকার করার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে৷ এর পাশাপাশি রাশিয়ার শক্তিশালী সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার আন্তর্জাতিক শাখা ‘রাশিয়ান ফেডারেশন ভলান্টিয়ার কর্পস’ (জিআরইউ-GRU)-কেও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় এনে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাজ্য৷

নিরাপত্তা রক্ষা ও নতুন আইনি ক্ষমতা: এই বিষয়ে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে কড়া বার্তা দিয়ে বলেছে— ‘সংগঠনগুলোর সমস্ত গতিবিধি এবং অকাট্য প্রমাণ অত্যন্ত সতর্কতার সাথে বিবেচনা করার পর আমরা এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি যে, এই সংস্থাগুলোর প্রত্যেকটিই বিদেশি রাষ্ট্রশক্তির হুমকিমূলক ও ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপে সরাসরি জড়িত৷ তাই যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, নাগরিক জীবন এবং সার্বভৌম স্বার্থ রক্ষার জন্য প্রতিটি সংগঠনের ওপর অনতিবিলম্বে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা আবশ্যক হয়ে পড়েছে৷’

নতুন প্রণীত এই বিশেষ আইনের আওতায় ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র সচিবকে (Home Secretary) যেকোনো বিদেশি রাষ্ট্র-সমর্থিত বিতর্কিত সংগঠনকে জাতীয় নিরাপত্তার হুমকি হিসেবে সরাসরি কালো তালিকাভুক্ত ও ঘোষণা করার বিশেষ আইনি ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে৷ এই কঠোর আইনের অধীনে তালিকাভুক্ত বা নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো সংগঠনকে কোনোভাবে সমর্থন করা, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ আর্থিক ও লজিস্টিক সহায়তা দেওয়া কিংবা তাদের কাছ থেকে কোনো ধরনের রাজনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করাকে মারাত্মক ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে৷ আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন— এই নতুন বিল পাসের ফলে ইরান ও রাশিয়ার সাথে যুক্তরাজ্যের কূটনৈতিক ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এক নজিরবিহীন ও বৈরি সংকটের মুখে পড়তে যাচ্ছে৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *