ভারত নিয়ন্ত্রিত পাহাড়ি উপত্যকা জম্মু ও কাশ্মীরের পুঞ্চ এবং রাজৌরি জেলায় প্রবল মৌসুমী বৃষ্টিপাত থেকে সৃষ্ট ভয়াবহ ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যায় (Flash Flood) অন্তত আটজন মানুষের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে৷ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখন পর্যন্ত নিখোঁজ রয়েছেন আরও অন্তত ছয়জন বাসিন্দা৷ উপত্যকার চরম ক্ষতিগ্রস্ত ও দুর্গম এলাকাগুলোতে স্থানীয় প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বাহিনীর যৌথ উদ্ধার অভিযান জোরালোভাবে চলছে৷
সুরনকোটে ক্ষয়ক্ষতি ও রাজৌরির বন্যা পরিস্থিতি: স্থানীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও উদ্ধারকারী দলের তথ্য অনুযায়ী— এবারের প্রাকৃতিক দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে পুঞ্চ জেলার সুরনকোট এলাকায়৷ সেখানে প্রবল বৃষ্টির কারণে একটি বিশাল পাহাড়ের মাটি ধসে নিচে থাকা একটি আবাসিক বসতবাড়ি সম্পূর্ণ চাপা পড়ে৷ খবর পেয়ে দ্রুত উদ্ধারকারীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে দুজনের লাশ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়৷ তবে ওই বাড়িটির আরও ছয়জন বাসিন্দা মাটির নিচে নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের উদ্ধারে তৎপরতা চলছে৷ এ ছাড়া অন্যান্য নিম্নাঞ্চলে বাড়ি ধসে এবং বানের পানিতে ভেসে গিয়ে আরও কয়েকজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে প্রশাসন৷
অপরদিকে, সীমান্তবর্তী রাজৌরি শহরের মূল লোকালয়ে আকস্মিক বন্যার পানি হু হু করে ঢুকে পড়ায় শত শত সাধারণ মানুষকে জরুরি ভিত্তিতে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে৷ পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে শহরের রাস্তায় পার্ক করে রাখা বহু যানবাহন ভেসে গেছে এবং ঘরবাড়ি ও দোকানপাটের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে৷ পাহাড়ি নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় পুরো রাজৌরি জেলায় রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে৷
মুখ্যমন্ত্রীর জরুরি পদক্ষেপ ও আবহাওয়ার পূর্বাভাস: জম্মু ও কাশ্মীরের সার্বিক বন্যা ও দুর্যোগ পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ তার পূর্বনির্ধারিত ভারতের রাজধানী দিল্লি সফর মাঝপথেই সংক্ষিপ্ত করে জরুরি ভিত্তিতে জম্মু ফিরে আসছেন৷ এক বিবৃতিতে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন— বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ও বাস্তুচ্যুত মানুষের তাৎক্ষণিক পুনর্বাসন ও চিকিৎস সহায়তায় স্থানীয় সিভিল প্রশাসন ও দুর্যোগ মোকাবেলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব ও অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে৷
এদিকে কাশ্মীরের আঞ্চলিক আবহাওয়া দফতর এক বিশেষ সতর্কবার্তায় জানিয়েছে— আগামী ২৩ জুলাই পর্যন্ত সমগ্র জম্মু ও কাশ্মীর উপত্যকাজুড়ে মাঝারি থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে৷ ফলে পাহাড়ি নদীগুলোর অববাহিকায় বসবাসরত বাসিন্দাদের নিরাপদ দূরত্বে থাকার এবং পার্বত্য অঞ্চলে ধসপ্রবণ সড়কে যান চলাচল সাময়িকভাবে এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে স্থানীয় ট্রাফিক পুলিশ ও প্রশাসন৷
সূত্র: দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
