কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় ‘ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬’ কার্যক্রমে সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারী পদের চূড়ান্ত তালিকা নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। তালিকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের স্থানীয় এক নেতার নাম অন্তর্ভুক্ত থাকা এবং একই পরিবারের একাধিক সদস্যকে নিয়োগ দেওয়ার ঘটনায় নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) উপজেলা প্রশাসন থেকে এই শুমারি কার্যক্রমের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বেলঘর উত্তর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি মো. শাহ নেওয়াজের নাম চূড়ান্ত তালিকায় এসেছে। এছাড়া বেলঘর উত্তর ইউনিয়নে একই পরিবারের ভাই-বোন (আয়েশা সিদ্দিকা সাবরিনা ও জুনায়েদ আহমেদ) একযোগে নির্বাচিত হওয়ায় স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে।
অন্যদিকে, ভুলইন উত্তর ইউনিয়নের স্থানীয় এক ছাত্রনেতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেছেন—তার এলাকায় নির্বাচিতদের প্রায় সবাই নির্দিষ্ট এক রাজনৈতিক মতাদর্শের সমর্থক পরিবারের সদস্য। নিয়োগে রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা রক্ষা করা হয়নি উল্লেখ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম লোকমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং উপজেলা প্রশাসনের নিকট এর স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেছেন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ জুলাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ফ্যামিলি কার্ড শুমারি নির্বাচন কমিটির সভাপতি সুব্রত বিশ্বাস দাসের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়। এতে সুপারভাইজার পদে ৮০ জন এবং তথ্য সংগ্রহকারী পদে ৩১৯ জন প্রার্থী অংশ নেন।
এ বিষয়ে লালমাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুব্রত বিশ্বাস দাস জানান, “চূড়ান্ত তালিকায় কোনো ত্রুটি বা বিচ্যুতি পাওয়া গেলে তা সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করা হবে।”
