ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) বলেছেন, কেবল হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করলেই দায়িত্ব শেষ নয়; বরং কোরআনের শিক্ষা ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে প্রতিফলিত করতে হবে। কোরআনকে বুঝে, মেনে ও অনুসরণ করাই একজন মুমিনের প্রকৃত দায়িত্ব।
আজ সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর টিএসসি মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আয়োজিত ‘হিফযুল কোরআন ও কোরআন তিলাওয়াত প্রতিযোগিতা-২০২৬’ (সিজন ২)-এর গ্র্যান্ড ফাইনাল ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, আল্লাহ তাআলা সর্বশক্তিমান ও সর্বক্ষমতার অধিকারী। তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন এবং রিজিকের ব্যবস্থা করেছেন। মানুষের শ্রবণ, দৃষ্টি ও স্মরণশক্তিও তাঁর দান। তাই তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও তাঁর বিধান মেনে চলাই মানবজীবনের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।
তিনি আরও বলেন, মহান আল্লাহর ইচ্ছাতেই সবকিছু ঘটে এবং তাঁর ফয়সালাই চূড়ান্ত। দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনও আল্লাহর কুদরতেরই বহিঃপ্রকাশ বলে তিনি মন্তব্য করেন।
কোরআন শিক্ষার প্রসারে কওমি মাদ্রাসাগুলোর অবদানের কথা উল্লেখ করে ধর্মমন্ত্রী বলেন, দেশে কোরআন শিক্ষায় এসব প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের আরও সংগঠিত ও সহযোগিতা করা হলে কোরআনের আলো সর্বত্র ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হবে।
রমজান মাসের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, এ মাস রহমত, বরকত ও নাজাতের মাস। এ মাসেই পবিত্র কোরআন নাজিল হয়েছে। রমজানে এমন একটি আয়োজন করায় তিনি আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান।
বাংলাদেশে ইসলামের প্রচার-প্রসারে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর ভূমিকার কথা স্মরণ করে মন্ত্রী বলেন, তিনি সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম’ সংযোজন করেন এবং সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাসের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করেন। এছাড়া তিনি OIC ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করেন। পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন এবং আলেম-ওলামাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলেন।
অনুষ্ঠানে ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রাকিবুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদ-এর খতিব মুফতি আবদুল মালেক। এছাড়া মাহাদুল ক্বিরাত বাংলাদেশের পরিচালক হাফেজ মাওলানা আহমদ বিন ইউসুফ আযহারীসহ অন্য নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় ও সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন উপস্থিত ছিলেন।
চারটি বিভাগে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় অনূর্ধ্ব ২৫ বছর বয়সী হাফেজ, স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, অনূর্ধ্ব ১৮ বছরের মাদ্রাসা শিক্ষার্থী এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। প্রতিটি বিভাগে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারীদের নগদ অর্থ ও সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। এছাড়া চতুর্থ থেকে দশম স্থান অর্জনকারীদেরও আকর্ষণীয় উপহার দেওয়া হয়।
