মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ব্যয়বহুল ‘থাড’ (THAAD) ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি রাডার ধ্বংস করেছে ইরান। মার্কিন এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই রাডারটি ধ্বংস হওয়ায় জর্ডানসহ পুরো অঞ্চলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্রেসিসের উপপরিচালক রায়ান ব্রবস্ট জানান, থাড রাডারের ওপর এই হামলাটি এখন পর্যন্ত ইরানের সবচেয়ে সফল হামলাগুলোর একটি। থাড সিস্টেম সাধারণত বায়ুমণ্ডলের প্রান্তে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম, যা সাধারণ প্যাট্রিয়ট ব্যাটারির তুলনায় অনেক বেশি উন্নত ও জটিল। জর্ডানের মুয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে থাকা এই এএন/টিপিওয়াই-২ রাডারটি অচল হয়ে যাওয়ায় এখন পুরো অঞ্চলের প্রতিরক্ষাভার তুলনামূলক কম শক্তিশালী প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।
সিএনএন-এর প্রকাশিত স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে, যুদ্ধের শুরুর দিনগুলোতে জর্ডানের ওই ঘাঁটিতে থাড ব্যবস্থার রাডার এবং এর সহায়তাকারী সরঞ্জামগুলো পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। যদিও প্রাথমিক অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র এই হামলা প্রতিহত করার দাবি করেছিল, তবে পরবর্তীতে সরঞ্জাম ধ্বংসের বিষয়টি তারা স্বীকার করতে বাধ্য হয়।
তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির হিসাব অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সংঘাতের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র এ পর্যন্ত প্রায় ২ বিলিয়ন (২০০ কোটি) ডলার সমমূল্যের সামরিক সরঞ্জাম হারিয়েছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরালো করতে দক্ষিণ কোরিয়ায় মোতায়েন থাকা মার্কিন প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা সেখানে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে পেন্টাগন। দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী চো হিউন জানিয়েছেন, এ বিষয়ে সিউল ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা চলছে।
