মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির চরম উত্তেজনার মধ্যে অঞ্চলটি থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে বহিষ্কারের জোরালো আহ্বান জানিয়েছে ইরান। শনিবার (১৪ মার্চ) ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতি এই আহ্বান জানান। একই দিনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখতে বিশ্বের বিভিন্ন শক্তিধর দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগ দিচ্ছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতিকে ‘ছিদ্রযুক্ত ছাতা’র সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ছাতা সমস্যা সমাধানের বদলে উল্টো সমস্যা ডেকে আনছে। হরমুজ প্রণালি সামলাতে ওয়াশিংটন এখন খোদ চীনের সহযোগিতা চাইছে।” তিনি প্রতিবেশী দেশগুলোকে ‘বিদেশি আগ্রাসী’দের বহিষ্কারের আহ্বান জানিয়ে বলেন, এসব বাহিনীর একমাত্র লক্ষ্য হলো ইসরায়েলকে সুরক্ষা দেওয়া।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’- এ এক পোস্টে দাবি করেছেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালি বন্ধের চেষ্টা করে তবে অনেক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথভাবে যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে। ট্রাম্প আশা প্রকাশ করেন—চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও ব্রিটেনের মতো দেশগুলো এই অঞ্চলে জাহাজ পাঠাতে পারে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র উপকূল থেকে হামলা চালাবে এবং ইরানের নৌকা ও জাহাজগুলোকে সমুদ্র থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবে।”
কেন এই উত্তেজনা?
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ। বিশ্বব্যাপী সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে যায়। ইরান প্রায়ই এই পথ বন্ধ করার হুমকি দিয়ে থাকে, যা বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি করে।
