ইরানের সঙ্গে যুদ্ধকে পুঁজি করে জনপ্রিয়তার পালে হাওয়া লাগাতে চেয়েছিলেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। কিন্তু যুদ্ধের চার সপ্তাহ পার হলেও লক্ষ্য অর্জিত না হওয়ায় উল্টো রাজনৈতিক অস্তিত্ব সংকটে পড়েছেন তিনি। একদিকে কমছে জনসমর্থন, অন্যদিকে ৩১ মার্চের মধ্যে বাজেট পাস করানোর আইনি বাধ্যবাধকতা—সব মিলিয়ে নেতানিয়াহুর সামনে এখন ‘আগাম নির্বাচন’ বা ‘ক্ষমতাচ্যুতি’র খড়্গ।
মার্চের শুরুতে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর নেতানিয়াহুর দল ‘লিকুদ পার্টি’ ভেবেছিল যুদ্ধের সাফল্য আগাম নির্বাচনে তাদের বৈতরণী পার করে দেবে। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। টাইমস অব ইসরায়েলের এক জরিপ বলছে, ১২০ আসনের পার্লামেন্টে লিকুদ পার্টি মাত্র ২৮টি আসন পেতে পারে এবং নেতানিয়াহুর জোটের মোট আসন ৫১-এর বেশি হবে না। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা (৬১ আসন) থেকে যা অনেক দূরে।
ইসরায়েলি আইন অনুযায়ী, ৩১ মার্চের মধ্যে বাজেট পাস না হলে তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন অনিবার্য। পরাজয়ের আশঙ্কায় নেতানিয়াহু এখন অতি রক্ষণশীল ইহুদি দলগুলোকে অতিরিক্ত বরাদ্দ দিয়ে হলেও জোট টিকিয়ে রাখতে মরিয়া। তবে যুদ্ধের প্রভাবে প্রতি সপ্তাহে দেশটির প্রায় ১৬ লাখ ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতি এই বাজেট প্রণয়নকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, গাজা ইস্যু থেকে দৃষ্টি সরিয়ে ইরান প্রসঙ্গে জনসমর্থন পাওয়ার কৌশলটিও দীর্ঘমেয়াদে কাজে আসছে না। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের ব্যর্থতার দায় এখনো নেতানিয়াহুর ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে রেখেছে।
