ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের যেসব দুর্গম এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া সম্ভব নয়, সেখানে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কুমির ও বিষধর সাপ মোতায়েন করার এক চাঞ্চল্যকর পরিকল্পনা করছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের এক নির্দেশনার ভিত্তিতে এই পরিকল্পনার সম্ভাব্যতা যাচাই শুরু করেছে বাহিনীটি।
প্রাচীনকালে দুর্গ বা প্রাসাদের চারপাশ সুরক্ষিত রাখতে পরিখায় কুমির ছেড়ে দেওয়ার যে কৌশল আমরা ইতিহাসে পড়েছি, একবিংশ শতাব্দীতে এসে সেটিই বাস্তবায়নের কথা ভাবছে ভারত। গত ২৬ মার্চ বিএসএফ-এর ইস্টার্ন এবং নর্থ-ইস্টার্ন সেক্টর সদর দপ্তরে পাঠানো এক গোপন বার্তায় বলা হয়েছে, নদীপথ বা পাহাড়ি ছড়ায় অপারেশনাল প্রয়োজনে সরীসৃপ মোতায়েন করা যায় কি না, তা খতিয়ে দেখতে।
বাংলাদেশ ও ভারতের ৪,০৯৬.৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তের প্রায় ৮৫০ কিলোমিটার এলাকা এখনও বেড়াহীন। এর মধ্যে ১৭৫ কিলোমিটার এলাকা নদী ও জলাভূমির কারণে বেড়া দেওয়ার অনুপযুক্ত। এছাড়া বিএসএফ বর্তমানে তীব্র জনবল সংকটে ভুগছে। বাহিনীর প্রায় ২.৬৫ লাখ কর্মীর একটি বড় অংশ অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও নির্বাচনী কাজে ব্যস্ত থাকে। আবার প্রায় ২০ শতাংশ সদস্য শারীরিকভাবে পুরোপুরি ফিট নন। এই সংকট মেটাতেই প্রকৃতিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহারের চিন্তা করা হচ্ছে।
ভারতের এই পদক্ষেপের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি পুরনো পরিকল্পনার মিল পাওয়া গেছে। ২০১৮ সালে ট্রাম্প মেক্সিকো সীমান্তে রিও গ্র্যান্ডে নদীতে কুমির ছাড়ার কথা বলেছিলেন। যদিও পরে তিনি তা কৌতুক হিসেবে উড়িয়ে দেন, তবে ভারত বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথেই বিবেচনা করছে। ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বিএসএফ-কে আধুনিক করতে ‘ই-বর্ডার’ ব্যবস্থার পাশাপাশি এই বিকল্প পদ্ধতি ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছে।
