দেশে চলমান জ্বালানি সংকটের মুখে লোডশেডিং পরিস্থিতি সামাল দিতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে দীর্ঘ ৭ মাস বন্ধ থাকার পর পুনরায় উৎপাদনে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছে পটুয়াখালীর পায়রা সংলগ্ন আরএনপিএল (RNPL) ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র। কয়লা আমদানির জটিলতা কাটিয়ে চলতি মাসেই কেন্দ্রটি চালু হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
দীর্ঘমেয়াদি কয়লা সরবরাহ চুক্তিতে জটিলতার কারণে গত বছরের ১১ নভেম্বর থেকে কেন্দ্রটির উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। তবে বর্তমান সংকটকালীন পরিস্থিতিতে জরুরি ভিত্তিতে ইন্দোনেশিয়া থেকে ১২ লাখ মেট্রিক টন কয়লা আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আব্দুল হালিম জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে একটি কয়লাবাহী জাহাজ বন্দরে পৌঁছেছে এবং আরও কয়েকটি জাহাজ আসার পথে রয়েছে।
দুটি ইউনিটে ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতার এই কেন্দ্রটি এককভাবে দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ১০ শতাংশ পূরণ করতে সক্ষম। প্রতিদিন প্রায় ১২ হাজার টন কয়লা পুড়িয়ে এই বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ করা সম্ভব। বর্তমানে গ্যাস ও তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়বহুল ও অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় কয়লাভিত্তিক এই কেন্দ্রটি চালু হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে দেশে কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর মোট সক্ষমতা ৬ থেকে ৭ হাজার মেগাওয়াট হলেও উৎপাদন হচ্ছে ৪ হাজার ৫০০ থেকে ৫ হাজার মেগাওয়াট। আরএনপিএল-এর মতো বড় কেন্দ্রগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরলে গ্রীষ্মকালীন তীব্র লোডশেডিং থেকে সাধারণ মানুষ মুক্তি পেতে পারে। পর্যাপ্ত কয়লা মজুত নিশ্চিত করা গেলে এই কেন্দ্রটি দিয়ে অন্তত সাড়ে তিন মাস নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন সচল রাখা সম্ভব হবে।
