ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্রে হামলা: প্রজন্মের পর প্রজন্ম ক্ষতির আশঙ্কা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার

ইরানের বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও খুজেস্তান প্রদেশের পেট্রোকেমিক্যাল কারখানায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ধারাবাহিক হামলায় তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) মহাপরিচালক তেদরোস আধানম গেব্রেয়াসুস। রোববার (৫ এপ্রিল) এক সতর্কবার্তায় তিনি জানান, এ ধরনের হামলা পারমাণবিক দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করছে, যার ভয়াবহ স্বাস্থ্যগত প্রভাব প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলতে পারে।

ইরানি সংবাদমাধ্যম ‘ইরনা’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার (৪ এপ্রিল) সকালে বুশেহর পারমাণবিক কেন্দ্রের কাছে চতুর্থবারের মতো ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। এতে এক নিরাপত্তারক্ষী নিহত হয়েছেন। একই সময়ে খুজেস্তান প্রদেশের মাহশাহর বিশেষ অঞ্চলে অন্তত ছয়টি পেট্রোকেমিক্যাল কারখানায় বিমান হামলা চালানো হয়, যাতে পাঁচজন আহত হয়েছেন।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এই হামলার কড়া সমালোচনা করে পশ্চিমাদের দ্বিমুখী নীতির দিকে আঙুল তুলেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, বুশেহর কেন্দ্রে হামলার ফলে যদি তেজস্ক্রিয় বিকিরণ (Radioactive Fallout) ঘটে, তবে তার প্রভাব তেহরানের চেয়ে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর (GCC) রাজধানীতে বেশি পড়বে এবং প্রাণের অস্তিত্ব বিপন্ন করবে।

রাশিয়া এই হামলাকে ‘অশুভ কর্মকাণ্ড’ এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে অভিহিত করেছে। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা অবিলম্বে এই হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। এদিকে, রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংস্থা ‘রোসাটম’ জানিয়েছে, সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে বুশেহর কেন্দ্র থেকে ইতোমধ্যে ১৯৮ জন কর্মীকে সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *