কৃষক মেলা, সাংস্কৃতিক উৎসব ও নড়াইল সাংস্কৃতিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রস্তাবনা অনুষ্ঠান উদ্বোধন

বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে নড়াইলে দিনব্যাপী এক বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে কৃষক মেলা, সাংস্কৃতিক উৎসব এবং “নড়াইল সাংস্কৃতিক বিশ্ববিদ্যালয়” প্রস্তাবনা বিষয়ক বিশেষ অনুষ্ঠান। এ উপলক্ষে আয়োজন করা হয় এক আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং কৃষিভিত্তিক প্রদর্শনী।
অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন জেলা পরিষদ, নড়াইল-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপসচিব জনাব মোঃ আসাদুজ্জামান। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, কৃষি ও সংস্কৃতির সমন্বয়েই একটি জাতির টেকসই উন্নয়ন সম্ভব। নড়াইলে একটি সাংস্কৃতিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবনা বাস্তবায়িত হলে এ অঞ্চল শিক্ষা ও সংস্কৃতির এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতির চেয়ারম্যান মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, গ্রামীণ অর্থনীতি ও সংস্কৃতিকে সমুন্নত রাখতে কৃষক মেলার গুরুত্ব অপরিসীম। পাশাপাশি একটি সাংস্কৃতিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অগ্নিবীণা কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি এইচ এম সিরাজ। তিনি তাঁর সভাপতির বক্তব্যে বলেন, নববর্ষ বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রতীক। এ ধরনের আয়োজন মানুষের মাঝে সম্প্রীতি, ঐক্য এবং সাংস্কৃতিক চেতনা জাগ্রত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
দিনব্যাপী আয়োজিত এই কর্মসূচিতে স্থানীয় কৃষকদের অংশগ্রহণে বিভিন্ন কৃষিপণ্য প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও ছিল লোকজ সংস্কৃতিভিত্তিক গান, নৃত্য, আবৃত্তি ও নাট্য পরিবেশনা, যা দর্শকদের মুগ্ধ করে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং স্থানীয় জনগণ। পুরো আয়োজনটি ছিল উৎসবমুখর ও প্রাণবন্ত, যা নববর্ষ উদযাপনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
উল্লেখ্য, “নড়াইল সাংস্কৃতিক বিশ্ববিদ্যালয়” প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবনাটি বাস্তবায়িত হলে এ অঞ্চলে সংস্কৃতি চর্চা, গবেষণা ও শিক্ষার নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *