তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে কারাবন্দি অবস্থায় বিষ প্রয়োগের মাধ্যমে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। ‘গণতন্ত্রের মা বেগম খালেদা জিয়া ফোরাম’-এর চেয়ারম্যান কানাডা প্রবাসী মমিনুল হক মিলন গত রোববার এই অভিযোগ জমা দেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম অভিযোগ প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, এটি একটি স্পর্শকাতর এবং পারিবারিক ইস্যু। তিনি বলেন, “আমরা অভিযোগটি পেয়েছি। এ বিষয়ে বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে। তাঁদের অবস্থান জেনে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
লিখিত অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, ১/১১-এর ধারাবাহিকতায় জিয়া পরিবারকে ধ্বংস করার আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে বেগম খালেদা জিয়াকে ২০১০ সালে মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়। ২০১৮ সালে সাজা দেওয়ার পর তাঁকে নির্জন কারাগারে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। অভিযোগে আরও বলা হয়, বেগম খালেদা জিয়া সুস্থ অবস্থায় হেঁটে কারাগারে প্রবেশ করেছিলেন, কিন্তু সেখানে তাঁকে ‘স্লো পয়জনিং’ করায় তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে এবং ‘মাফিয়াতন্ত্রের’ মাধ্যমে বেগম খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার সুযোগ কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। মেডিকেল বোর্ডের সুপারিশ সত্ত্বেও তাঁকে বিদেশে যেতে না দেওয়া সুপরিকল্পিত হত্যার ষড়যন্ত্র এবং মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকলকে চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানানো হয়েছে ওই আবেদনে।
