চবিতে কেন্দ্রীয় মন্দির উদ্বোধন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী
দেশের সকল নাগরিকের জন্য সহনশীল, সংবেদনশীল, মানবিক ও স্থিতিশীল দেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী জনাব আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এমপি। তিনি বলেন, একটি দেশের মৌলিক বৈশিষ্ট্য হলো সহনশীল, সংবেদনশীল, মানবিক ও স্থিতিশীলতা। এসব বৈশিষ্ট্য না থাকলে একটি দেশ এগিয়ে যেতে পারে না। সকলে মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে আমরা সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে চাই।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল ২০২৬) সকাল ১০টায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মন্দির (স্বরসতী জ্ঞান মন্দির) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী জনাব আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এমপি সবাইকে শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, আজকের অনুষ্ঠানের আলাদা বৈচিত্র্য রয়েছে। কারণ এটি সাধারণ কোনো মন্দির উদ্বোধন নয়, এটি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বাংলাদেশের অন্যতম বিদ্যাপীঠের মন্দির উদ্বোধন। এ বিশ্ববিদ্যালয় বৈচিত্র্যময় একটি বিশ্ববিদ্যালয়। যেখানে বৈচিত্র্য ও ঐক্য নেই, সেখানে উন্নতি হয় না। মাননীয় মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানে সকলের নাগরিকের অধিকার সমান। এখানে কোনো সংখ্যালঘু, সংখ্যাগরিষ্ঠ, সাম্প্রদায়িক শব্দ আমরা ব্যবহার করতে চাই না।
মাননীয় অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, বিএনপির দর্শন হলো রংধনু জাতি গঠন করা। বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ দর্শন থেকে এটি এসেছে। অর্থাৎ বাংলাদেশের ভূখণ্ডে যারা বসবাস করবে তাদের প্রথম পরিচয় হচ্ছে আমরা বাংলাদেশী, এরপর আমাদের ধর্ম, বর্ণ, গোত্র এবং কৃষ্টি-সংস্কৃতি রয়েছে। বৈচিত্র্য ছাড়া একটি দেশ, সমাজ হতে পারে না। বিএনপি বৈচিত্র্যের মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিভাবে দেশ পরিচালনা করছে। এখানে সকলের মতের, চিন্তার ও ভাবনার প্রতিফলন ঘটছে। সকলে মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। সবাইকে একসাথে চলতে হবে, আলাদা হওয়ার সুযোগ নেই।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্য বর্ণনা করে মাননীয় মন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করে মনে হচ্ছে আমি প্রকৃতির মধ্যে ডুবে গেছি। অপার সম্ভবনাময় অপূর্ব একটি বিশ্ববিদ্যালয় এটি। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্ভাবনাগুলোকে আমাদের কাজে লাগাতে হবে। আমি এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল উন্নয়ন-অগ্রগতিতে পাশে থাকবো। সময়োপযোগী উদ্যােগ গ্রহণ করলে এটি বাংলাদেশের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করা সম্ভব। এজন্য দল-মত নির্বিশেষে কাজ করতে হবে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে সম্পর্ক বৃদ্ধি করতে হবে। পড়াশোনার গুণগত মান বৃদ্ধি করতে হবে। মাননীয় মন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন এবং আয়োজকসহ সকলকে ধন্যবাদ জানান।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান এর সভাপতিত্বে উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এমপি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শ্রী বিজন কান্তি সরকার, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার, চবি মাননীয় উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান, চবি মাননীয় উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মোঃ কামাল উদ্দিন এবং মন্দিরের দাতা ও অদুল-অনিতা ট্রাস্টের চেয়ারম্যান শ্রী অদুল কান্তি চৌধুরী।
