ইরানে তাৎক্ষণিক সামরিক অভিযানের সম্ভাবনা নেই বলে আগে জানালেও এবার ভিন্ন সুরে কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, ইরানের ওপর চাপ বজায় রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর একটি বিশাল নৌবহর বা ‘আর্মাডা’ উপসাগরীয় অঞ্চলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) ট্রাম্প বলেন, ইরান কর্তৃপক্ষ সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের পরিকল্পিত ফাঁসি কার্যক্রম স্থগিত করেছে—হোয়াইট হাউসের এমন তথ্য পাওয়ার পরই তিনি গত সপ্তাহে ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি হামলার হুমকি থেকে সরে এসেছিলেন। তবে সামরিক প্রস্তুতি যে অব্যাহত রয়েছে, তা স্পষ্ট করেন রিপাবলিকান এই প্রেসিডেন্ট।
মার্কিন গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনকে দক্ষিণ চীন সাগর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এতে করে অঞ্চলটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি আরও জোরদার হচ্ছে।
সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে অংশগ্রহণ শেষে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, “আমরা ইরানের দিকে নজর রাখছি। আমাদের অনেক জাহাজ সেদিকে যাচ্ছে। যদি কিছু ঘটে, তার জন্য আমরা প্রস্তুত থাকছি।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা ইরানের দিকে একটি বড় ফোর্স পাঠাচ্ছি। আমি চাই না কিছু ঘটুক, তবে আমরা তাদের খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করছি।” এই বাহিনীকে তিনি একটি ‘আর্মাডা’ ও ‘বিশাল নৌবহর’ হিসেবে বর্ণনা করলেও যোগ করেন, “হয়তো আমাদের এটি ব্যবহার করার প্রয়োজনই হবে না।”
ট্রাম্প দাবি করেন, তেহরানের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের হুমকির কারণেই ৮৩৭ জন বিক্ষোভকারীর ফাঁসি কার্যকর হওয়া বন্ধ হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসতে আগ্রহী বলেও জানান।
এদিকে ইরানি কর্তৃপক্ষ বুধবার (২১ জানুয়ারি) সরকারিভাবে বিক্ষোভে মৃত্যুর সংখ্যা প্রকাশ করেছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, বিক্ষোভে নিহত হয়েছেন ৩ হাজার ১১৭ জন। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, প্রকৃত মৃতের সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে।
