ইরানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক হামলা ও ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে দীর্ঘদিনের অনুসরণ করা “কৌশলগত ধৈর্যের” নীতি থেকে সরে আসার শক্তিশালী ইঙ্গিত দিয়েছে তেহরান। দেশটির সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরানের উপকূলীয় এলাকা এবং তেল ট্যাঙ্কার লক্ষ্য করে সাম্প্রতিক হামলার পর সামরিক প্রস্তুতি ও নজরদারি বহুগুণ জোরদার করা হয়েছে।
ইরানি সামরিক কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের ভূখণ্ড, জ্বালানি স্থাপনা বা তেল ট্যাঙ্কারসহ দেশটির জাতীয় স্বার্থে আঘাত হানার পরিকল্পনা করা যেকোনো দেশের জন্য “কঠোর পরিণতি” অপেক্ষা করছে। যদিও তারা সরাসরি কোনো নির্দিষ্ট দেশের নাম উল্লেখ করেননি, তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন এই বার্তা মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছে।
ইরানের সেনাবাহিনীর একজন মুখপাত্র দাবি করেছেন, শত্রুপক্ষ যদি ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তবে তারা “নতুন অস্ত্র, নতুন যুদ্ধ পদ্ধতি এবং নতুন যুদ্ধক্ষেত্রের বিস্ময়” দেখতে পাবে। তাঁর ভাষায়, ইরান সম্ভাব্য যেকোনো সংঘাত মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং তাদের পাল্টা আঘাত হবে অভাবনীয়।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বার্তাটি দেওয়া হয়েছে সমুদ্রপথ নিয়ে। মুখপাত্র আরও বলেন, যেসব দেশ ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপে যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন দিচ্ছে, তাদের জন্য হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের পথ অনিরাপদ হয়ে উঠতে পারে। বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে বড় ধরনের সমস্যার মুখে পড়তে হতে পারে বলে ইরান ইঙ্গিত দিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান এই অস্থিরতায় ইরানের এমন কঠোর অবস্থান বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
সূত্র: আল-জাজিরা
