যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক উত্তেজনা এবং আসন্ন মার্কিন মুদ্রাস্ফীতির তথ্য প্রকাশের আগেই আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও বড় লাফ দিয়েছে স্বর্ণের দাম। সোমবার (১১ মে) রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ায় স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ০.৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৭৩০.৪৯ ডলারে পৌঁছেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বিনিয়োগকারীরা এখন মঙ্গলবার প্রকাশিতব্য যুক্তরাষ্ট্রের কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স (CPI) এবং বুধবারের প্রডিউসার প্রাইস ইনডেক্স (PPI) তথ্যের দিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখছেন। মুদ্রাস্ফীতির চাপের কারণে ২০২৬ সালে সুদের হার কমানোর যে পূর্বাভাস ছিল, তা এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। সাধারণত সুদের হার উচ্চ থাকলে স্বর্ণের মতো আয়হীন সম্পদের ওপর চাপ তৈরি হয়, তবে বর্তমান অনিশ্চয়তায় পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নিচ্ছে।
স্বর্ণের এই দাম বাড়ার নেপথ্যে বড় কারণ হিসেবে কাজ করছে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর ওই অঞ্চলে নতুন করে যুদ্ধংদেহী পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বিশ্ববাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে নেতিবাচক প্রভাব ফেলার আশঙ্কা তৈরি করেছে, যা পরোক্ষভাবে স্বর্ণের বাজারে প্রভাব ফেলছে।
স্বর্ণের পাশাপাশি পাল্লা দিয়ে বাড়ছে রুপার দামও। এক দিনেই রুপার দাম ৫.৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৮৪.৯৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া মূল্যবান ধাতু প্লাটিনাম ২.৬ শতাংশ এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মুদ্রাস্ফীতির তথ্য যদি প্রত্যাশার চেয়ে বেশি হয়, তবে স্বর্ণের দাম আরও এক দফা বাড়তে পারে।
