বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের অধিকার সুরক্ষা এবং তাদের জন্য কার্যকর সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের লক্ষ্যে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিবান্ধব অবকাঠামো, শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ সব সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।
বুধবার (১৩ মে ২০২৬) বাংলাদেশ সচিবালয়ে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের অধিকার সুরক্ষা ও সেবা নিশ্চিতে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের সভায় তিনি এসব নির্দেশনা দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সমাজের প্রতিটি স্তরে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের মর্যাদা ও সক্ষমতাকে মূল্যায়ন করতে হবে। এমন বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে তারা রাষ্ট্রীয় সব কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে পারেন।”
ভবন নির্মাণ ও পরিবহনে নতুন নিয়ম: প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশ দেন যে, ভবন নির্মাণ নীতিমালায় হাসপাতাল, রেস্টুরেন্টসহ সরকারি-বেসরকারি সব স্থাপনায় হুইলচেয়ার ব্যবহারকারীদের যাতায়াত উপযোগী অবকাঠামো ও টয়লেট সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে কক্ষের দরজার প্রশস্ততা এমন হতে হবে যাতে হুইলচেয়ার সহজেই প্রবেশ করতে পারে। এছাড়া নারীদের জন্য পরিকল্পিত ইলেকট্রিক বাসেও বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের জন্য বিশেষ সুবিধা রাখার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
শিশু স্বর্গ প্রকল্প ও স্কুল তদারকি: সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, প্রাথমিকভাবে দেশের ১০টি জেলার ১০টি উপজেলায় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের স্বাস্থ্য ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে ‘শিশু স্বর্গ’ প্রকল্প চালু করা হবে। এছাড়া সারাদেশে পরিচালিত বিশেষায়িত স্কুলগুলো সঠিকভাবে চলছে কি না, তা খতিয়ে দেখার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। শিশুদের খেলাধুলার প্রসারে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ প্রতিযোগিতায় তাদের অন্তর্ভুক্ত করারও ঘোষণা দেওয়া হয়।
সভায় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসির খান চৌধুরীসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।
