বাংলাদেশে আশঙ্কাজনকভাবে ছড়িয়ে পড়া হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় বিশেষ মানবিক ও চিকিৎসা সহায়তার সুনির্দিষ্ট আশ্বাস দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র এবং জাতিসংঘ। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুরে নিউইয়র্কের ফরেন প্রেস সেন্টারে আয়োজিত এক বিশেষ ব্রিফিংয়ে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।
ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, বাংলাদেশে এ বছর এখন পর্যন্ত ৫৩ হাজারের বেশি শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে এবং প্রাণ হারিয়েছে ৩৬৩ জন শিশু। বিশেষ করে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও আট শিশুর মৃত্যুর তথ্য তুলে ধরা হলে পরিস্থিতিটিকে ‘জীবন-মরণ সংকট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ও জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয়কারী দপ্তর (OCHA) নতুন করে ১.৮ বিলিয়ন ডলারের মানবিক সহায়তা চুক্তির ঘোষণা দিয়েছে। এর ফলে ওচা-র জীবন রক্ষাকারী সহায়তা কর্মসূচিতে মার্কিন সহায়তার মোট পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩.৮ বিলিয়ন ডলারে। এই বিশাল তহবিল বিশ্বের যে ২১টি দেশে ব্যয় করা হবে, তার মধ্যে বাংলাদেশকে অন্যতম অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সিনিয়র অফিসিয়াল জেরেমি পি. লুইন বলেন, “বাংলাদেশের জন্য ওচা-র তহবিলে একটি সুনির্দিষ্ট অংশ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং ক্লিনিক্যাল সাপোর্ট দ্রুত পৌঁছানো।” একই সঙ্গে জাতিসংঘের আন্ডার-সেক্রেটারি জেনারেল টম ফ্লেচার জানান, হামের এই প্রাদুর্ভাবকে ‘লাইফ-সেভিং’ ইস্যু হিসেবে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সরাসরি আক্রান্ত শিশুদের কাছে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, ট্রাম্প প্রশাসনের ‘হিউম্যানিটেরিয়ান রিসেট’ ফ্রেমওয়ার্কের মাধ্যমে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমিয়ে মাত্র ৭ দিনের মধ্যে তহবিল ছাড় করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এই মডেলে ৯২ শতাংশ অর্থ সরাসরি সংকটে থাকা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। সহায়তার স্বচ্ছতা নিশ্চিতে একটি উন্মুক্ত ড্যাশবোর্ডও চালু করা হবে।
অগ্রাধিকার পাওয়া ২১টি দেশের তালিকায় বাংলাদেশ ছাড়াও রয়েছে ইউক্রেন, সিরিয়া, নাইজেরিয়া এবং মোজাম্বিকের মতো দেশগুলো। বিশ্বনেতাদের এই আশ্বাস বাংলাদেশের বর্তমান স্বাস্থ্য সংকট মোকাবিলায় এক নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে।
