বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন— ভারতের একমাত্র ও প্রধান অপছন্দের রাজনৈতিক দল হলো জামায়াতে ইসলামী৷ তারা সবসময় আমাদের লাল কার্ড দেখানোর চেষ্টা করে৷ কিন্তু জামায়াত তাদের এই লাল কার্ডের মোটেও পরোয়া করে না, কারণ তাদের ভূখণ্ডে যাওয়ার কোনো অভিপ্রায় বা ইচ্ছে আমাদের নেই৷ আজ বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ‘জুলাই শহীদ দিবস’ উপলক্ষে রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন (আইডিইবি) মিলনায়তনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াত আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন৷
অতীত বনাম ২০২৪-এর রাজনৈতিক বাস্তবতা: আলোচনা সভায় জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বর্তমান রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতির চুলচেরা বিশ্লেষণ করেন৷ তিনি বলেন— ‘সরাসরি কিংবা পরোক্ষভাবে সবাই ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের মহান অর্জন ও রাষ্ট্র সংস্কারের দাবিকে মৌখিকভাবে স্বীকার করলেও, একশ্রেণির রাজনৈতিক দল ও নেতা এখনও অতীত নিয়ে পড়ে আছেন৷ ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের সেই যুগান্তকারী রক্তক্ষয়ী বিপ্লব না ঘটলে আজ তারেক সাহেব প্রধানমন্ত্রী হতে পারতেন না আর আমি সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা হতে পারতাম না৷ সুতরাং দেশের এই রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মহান সত্যকে স্বীকার করতে হবে৷ অতীত নিয়ে পড়ে থাকলে জাতি কোনোভাবেই সামনে এগিয়ে যেতে পারবে না৷’
তিনি আরও যোগ করেন— জুলাই আন্দোলনের অন্যতম প্রধান এবং মৌলিক দাবি ছিল সামগ্রিক রাষ্ট্রীয় সংস্কার৷ যারা ইদানীং দাবি করছেন যে দেশের সাধারণ মানুষ গণভোটের আইনি প্রশ্নগুলো বুঝতে পারে না, তাদের কড়া সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন— ‘জনগণ যদি সংস্কারের চারটি সাধারণ প্রশ্নই বুঝতে না পারে, তবে তারা রাজনৈতিক দলগুলোর দেওয়া জটিল ৩১ দফা বুঝল কীভাবে? এ ধরনের বক্তব্য এ দেশের সাধারণ জনগণের বিচারবুদ্ধির ওপর এক চরম অপমানের শামিল৷’
সংসদে সমাধান না হলে ফয়সালা রাজপথে: সংসদীয় গণতান্ত্রিক ধারা রক্ষা ও গণতান্ত্রিক আচরণ নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন— ‘যেকোনো রাজনৈতিক দলকে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে অন্যায় সিদ্ধান্ত চাপিয়ে না দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি৷ ভোট কারচুপির কালো ইতিহাস একদিন না একদিন প্রকাশ পাবেই৷ জনগণের ন্যায্য গণভোটের রায়ের পক্ষে যে ঐতিহাসিক আন্দোলন ও লড়াই হয়েছে, তা কখনও বৃথা যেতে পারে না৷ দেশের যেকোনো বড় জাতীয় ও রাজনৈতিক সংকট যদি সংসদে গণতান্ত্রিক উপায়ে সমাধান করা না যায়, তবে পূর্বের ইতিহাসের মতোই রাজপথে তার চূড়ান্ত সমাধান হবে৷’
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে এই বিশাল আলোচনা সভায় দেশের বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সংস্কার প্রক্রিয়া, দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জাতীয় ঐক্যের ওপর জোর দেওয়া হয়৷ আলোচনা সভায় জুলাই আন্দোলনের শহীদ ও আহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়৷
