অবশেষে কাটল ৯৮১ দিনের দীর্ঘ প্রতীক্ষা: স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপে ফিরলেন ব্রাজিলের প্রাণভোমরা নেইমার

বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ফুটবল ভক্তের দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও প্রার্থনার অবসান ঘটল অবশেষে৷ প্রায় তিন বছর জাতীয় দলের বৃত্তের বাইরে থাকার পর আবারও ব্রাজিলের ঐতিহ্যবাহী হলুদ জার্সি গায়ে জড়িয়ে ফুটবলের সবুজ গালিচায় রাজকীয়ভাবে প্রত্যাবর্তন করলেন নেইমার জুনিয়র৷ চলতি ২০২৬ ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমে দীর্ঘ ৯৮১ দিনের যন্ত্রণাদায়ক অপেক্ষার ইতি টানলেন ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা৷

ইনজুরির অন্ধকার পেরিয়ে ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন: পরিসংখ্যানের পাতা উল্টালে দেখা যায়— ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর জাতীয় দলের হয়ে সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছিলেন নেইমার জুনিয়র৷ এর পর লিগামেন্ট ও ডান পায়ের কাফ ইনজুরিসহ অত্যন্ত গুরুতর চোটের কারণে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে কাটাতে হয় তাঁকে৷ মাঝখানে ক্লাব ফুটবলে ফিরলেও জাতীয় দলে ফেরার পথটা তাঁর জন্য মোটেও মসৃণ ছিল না৷ একের পর এক নতুন শারীরিক সমস্যা ও ফিটনেস জটিলতার কারণে বারবার পিছিয়ে যাচ্ছিল সেলেসাওদের জার্সিতে তাঁর প্রত্যাবর্তনের কাঙ্ক্ষিত দিনটি৷

তবুও চলতি বিশ্বকাপের আগে অভিজ্ঞ ও পরীক্ষিত এই ফরোয়ার্ডের ওপর শতভাগ আস্থা রেখেছিলেন ব্রাজিলের বিশ্বখ্যাত কোচ কার্লো আনচেলত্তি৷ নেইমারকে বিশ্বকাপ স্কোয়াডে রাখা হলেও প্রথম দুই ম্যাচে মরক্কো ও হাইতির বিপক্ষে শতভাগ ফিট না থাকায় মাঠে নামানো হয়নি৷ ফলে সমর্থকদের অপেক্ষা যেন আরও দীর্ঘ ও ব্যাকুল হয়ে উঠেছিল৷

কুনহার গোল ও বদলি হিসেবে মাঠে প্রবেশ: অবশেষে সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তটি আসে আজ স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে মায়ামির বিখ্যাত হার্ড রক স্টেডিয়ামে৷ ম্যাচটিতে ব্রাজিল তখন স্কটল্যান্ডের রক্ষণভাগ চূর্ণ করে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল৷ ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের দুর্দান্ত জোড়া গোলের পর ম্যাচের ৬০ মিনিটে ব্রাজিলের হয়ে তৃতীয় গোলটি করেন তারকা স্ট্রাইকার ম্যাথিউস কুনহা৷ গোল উদযাপনের সময় বেঞ্চে বসে থাকা নেইমারের কাছে দৌড়ে গিয়ে জড়িয়ে ধরে আনন্দ ভাগ করে নিয়েছিলেন কুনহা, যা ছিল এক দারুণ দৃশ্য৷

এর ঠিক ১৫ মিনিট পর, অর্থাৎ ম্যাচের ৭৫তম মিনিটে সেই কুনহার বদলি খেলোয়াড় হিসেবেই মাঠের সাইডলাইনে এসে দাঁড়ান নেইমার জুনিয়র৷ রেফারি সবুজ সংকেত দিতেই মাঠে প্রবেশ করেন তিনি৷ মায়ামির গ্যালারিজুড়ে তখন শুরু হয় গগনবিদারি উল্লাস ও করতালি৷ দীর্ঘ ইনজুরি-সংগ্রামের পর জাতীয় দলের জার্সিতে তাঁর এই প্রত্যাবর্তন যেন হেক্সা মিশনের অপেক্ষায় থাকা ব্রাজিল সমর্থকদের জন্য এক নতুন আশার আলো নিয়ে এসেছে৷

নেইমার মাঠে নামার আগেই সেলেসাওদের জয় একপ্রকার নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল৷ তবে আজকের ম্যাচে স্কোরলাইনের চেয়েও বড় খবর ছিল নেইমারের ফেরার এই মহাজাগতিক মুহূর্তটি৷ আন্তর্জাতিক ফুটবলে ৭৯ গোলের মালিক এই মহাতারকা নকআউট পর্বের ঠিক আগে দলে ফেরায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে পুরো ব্রাজিল শিবির৷ বিশ্বকাপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও কঠিন নকআউট পর্ব সামনে, আর ঠিক সেই সময়েই ব্রাজিলের তুরুপের তাস দলে ফেরায় শিরোপার লড়াইয়ে সেলেসাওদের শক্তি ও আত্মবিশ্বাস যে বহুগুণ বেড়ে গেল, তা বলাই বাহুল্য৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *