ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া হুশিয়ারির পর মধ্যপ্রাচ্যে চলমান তীব্র সামরিক ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতা প্রতিষ্ঠায় ত্রাতা হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান। তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে তুলতে পর্দার আড়ালে এক মেগা কূটনীতি শুরু করেছে ইসলামাবাদ।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার এই কূটনৈতিক জট কাটাতে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি টানা তৃতীয় দিনের মতো তেহরানে অবস্থান করছেন। সফরকালে তিনি ইরানের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্ব, বর্তমান প্রেসিডেন্ট ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের গোপন ও দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন। তেহরানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুই পক্ষের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হলেও এখনো বেশ কয়েকটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে গভীর মতপার্থক্য রয়ে গেছে।
কূটনৈতিক সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, পাকিস্তান বর্তমানে অন্তত এমন একটি প্রাথমিক ও মৌলিক সমঝোতা কাঠামো (Basic Framework) তৈরির চেষ্টা করছে, যা ইসলামাবাদে চূড়ান্ত রূপ দিয়ে পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে উপস্থাপন করা সম্ভব হবে।
আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে জোর গুঞ্জন রয়েছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভির এই আলোচনায় যদি উল্লেখযোগ্য বা দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি আসে, তবে পাকিস্তানের ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির নিজেই সরাসরি তেহরান সফরে যেতে পারেন। তেহরানের রাজনৈতিক ও কৌশলগত মহলের ধারণা, পাক ফিল্ড মার্শালের এই সম্ভাব্য সফরটি যদি শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়, তবে সেটি হবে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের অগ্রগতির সবচেয়ে শক্তিশালী ও চূড়ান্ত ইঙ্গিত।
এদিকে এই পরমাণু ও ভূ-রাজনৈতিক সংকটের মধ্যেই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ আগামীকাল শনিবার (২৩ মে) একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সফরে চীনে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শাহবাজ শরিফের এই চীন সফর কেবল দ্বিপাক্ষিক নয়, বরং তিনি তেহরান থেকে পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল বার্তা বেইজিংয়ের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে পৌঁছে দিতে পারেন।
ফলে পাকিস্তান বর্তমানে একাধারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইরান, মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক শক্তিগুলো এবং বিশ্বশক্তি চীনের মধ্যে এক জটিল ও বহুমুখী কূটনৈতিক ভারসাম্য (Diplomatic Balancing Act) রক্ষার কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান বনাম যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল জোটের চলমান নড়বড়ে যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালির বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় পাকিস্তানের এই অতি-সক্রিয় কূটনৈতিক তৎপরতা ও মধ্যস্থতা অঞ্চলজুড়ে সম্পূর্ণ নতুন এক রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সূত্র: আল জাজিরা
