ইরানের বিরুদ্ধে পুনরায় পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরু করার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গত ২৪ ঘণ্টায় জার্মানির সামরিক ঘাঁটি থেকে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি বিশেষ কার্গো বা মালবাহী বিমান ইসরাইলের তেল আবিবে অবতরণ করেছে। ইসরাইলের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘চ্যানেল ১৩’-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
ইসরাইলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানি থেকে সামরিক সরঞ্জামবাহী একাধিক কার্গো বিমান ইতিমধ্যে দেশটিতে এসে পৌঁছেছে। এই গোলাবারুদ ও সামরিক সরঞ্জামগুলো ইসরাইলি সেনাবাহিনীর ‘অপারেশনাল প্রস্তুতি’ বা যুদ্ধকালীন প্রস্তুতি জোরদারে সরাসরি ব্যবহার করা হবে।
এদিকে ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেন, “তারা (ইরান) ভাবছে আমি হয়তো ক্লান্ত বা বিরক্ত হয়ে যাব কিংবা চাপে পড়ব। কিন্তু আমার ওপর এখানে কোনো চাপই নেই। আমরা পূর্ণাঙ্গ বিজয় অর্জন করতে যাচ্ছি।”
ট্রাম্প অভিযোগ করেন, দুই পক্ষ একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর খুব কাছাকাছি গেলেও শেষ মুহূর্তে ইরানের নেতারা ‘মন পরিবর্তন’ করে ফেলেন। মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া শর্ত বা দাবি পূরণে ইরানি সামরিক বাহিনীর অসম্মতির কারণেই এই অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। চলমান মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, “যুদ্ধবিরতিটি এখন ভেঙে পড়ার চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। আমি বলব যুদ্ধবিরতিটি এখন লাইফ সাপোর্টে রয়েছে।”
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন অসন্তুষ্টি বা যুদ্ধের হুঁশিয়ারিতে ইরানের সামরিক বাহিনী মোটেও চিন্তিত নয় বলে স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছে। ইরানি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাগারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) একটি পোস্টে লিখেছেন, “ইরানে কেউই ডোনাল্ড ট্রাম্পকে খুশি করার জন্য কোনো পরিকল্পনা করছে না। আলোচনাকারী দলকে এমন পরিকল্পনা করতে হবে যা কেবল ইরানের অধিকারকে সম্মান জানায়। আর ট্রাম্প এতে অসন্তুষ্ট হলেই স্বাভাবিকভাবে তা আমাদের জন্য বেশি ভালো হবে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন সামরিক সহায়তার এই নতুন চালান এবং দুই পক্ষের কড়া অবস্থানের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে যেকোনো সময় পুনরায় বড় ধরনের সংঘাত বা আঞ্চলিক যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সূত্র: আল-জাজিরা, সিএনএন
