কক্সবাজারে গত ৫ জুলাই রাতে টানা মুষলধারে বৃষ্টির কারণে ভয়াবহ পাহাড়ধসে রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের বাসিন্দাসহ ৯ জন নিরীহ মানুষের মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক, দুঃখ ও সমবেদনা জ্ঞাপন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী৷ আজ সোমবার (৬ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিশেষ শোক বিবৃতিতে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার এই গভীর শোক প্রকাশ করেন৷ বিবৃতিতে তিনি নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং পাহাড়ি অঞ্চলের ঝুঁকিপূর্ণ বাসিন্দাদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারকে দ্রুত রানিং পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান৷
পাহাড়ধসের বিবরণ ও জামায়াতের শোক: বিবৃতিতে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন— “টানা বর্ষণের কারণে কক্সবাজারে রোববার দিবাগত রাত একটা থেকে শুরু করে সোমবার ভোর চারটা পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে৷ এতে রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের বাসিন্দাসহ ৯ জনের মৃত্যুর ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক, বেদনাদায়ক ও হৃদয়বিদারক৷ আমি এই আকস্মিক হতাহতের ঘটনায় গভীরভাবে শোকাহত ও মর্মাহত৷ নিহতদের রুহের মাগফিরাত এবং দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি৷ একই সাথে নিহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি৷”
রোহিঙ্গা মৃত্যুর দায় মিয়ানমারের জান্তা সরকারের: অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার তাঁর বিবৃতিতে এই ট্র্যাজেডির পেছনের মূল ভূ-রাজনৈতিক কারণ তুলে ধরে বলেন— “মিয়ানমারের জান্তা সরকারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর দীর্ঘদিনের নিপীড়নমূলক ও অমানবিক কর্মকাণ্ডের কারণেই তারা নিজ দেশ ছেড়ে পালিয়ে এসে বাংলাদেশের পাহাড়ের অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে শরণার্থী হিসেবে সাময়িকভাবে বসবাস করতে বাধ্য হয়েছে৷ ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগে এই অসহায় রোহিঙ্গাদের অকাল মৃত্যুর দায় কোনোভাবেই মিয়ানমারের জান্তা সরকার এড়াতে পারে না; এর সম্পূর্ণ দায় তাদের ওপরও বর্তায়৷” তিনি রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে মর্যাদাপূর্ণ ও নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করার জন্য জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং বৈশ্বিক মানবাধিকার সংগঠনসমূহের প্রতি আরও দৃঢ় ও কার্যকর রানিং পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানান৷
আর্থিক সহযোগিতা ও দুর্যোগপূর্ব সতর্কতার আহ্বান: জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আরও বলেন— “প্রাকৃতিক দুর্যোগে এতগুলো তাজা মানুষের প্রাণহানি এক অপূরণীয় ক্ষতি৷ এই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে অবিলম্বে রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহযোগিতা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা প্রদানের জন্য আমি সরকারের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি৷” একই সঙ্গে কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটিসহ দেশের বিভিন্ন পার্বত্য জেলাসমূহে পাহাড়ের পাদদেশে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বসবাসকারী স্থানীয় বাসিন্দা ও শরণার্থীদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতে দুর্যোগপূর্ব বিশেষ সতর্কতা জারি করার আহ্বান জানান তিনি৷ বর্ষা মৌসুমের এই রানিং সময়ে বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই তাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের প্রতি জরুরি আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াত নেতা৷
