কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের নিয়মিত সেনাবাহিনীর বিধ্বংসী ড্রোন হামলা অব্যাহত

মধ্যপ্রাচ্যের রানিং ভূ-রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে এবার কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ধারাবাহিক ড্রোন হামলা অব্যাহত রেখেছে ইরানের নিয়মিত সেনাবাহিনী৷ ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ (IRNA) এর মাধ্যমে প্রকাশিত এক বিশেষ ও আনুষ্ঠানিক সামরিক বিবৃতিতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে৷ বিবৃতিতে ইরানের নিয়মিত সেনাবাহিনী দাবি করেছে— তারা কুয়েতে অবস্থানরত মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় একের পর এক “ধ্বংসাত্মক ড্রোন” হামলা চালিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করতে সক্ষম হয়েছে৷

হামলার মূল লক্ষ্যবস্তু ও বাঙ্কার চূর্ণ: ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে পাঠানো রানিং বিবৃতিতে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে— তাদের এই বিশেষ সামরিক ড্রোন হামলার প্রধান লক্ষ্যবস্তু ছিল কুয়েতে মোতায়েনকৃত মার্কিন বাহিনীর অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, আন্ডারগ্রাউন্ড বাঙ্কার এবং সহায়তাকারী বিশেষ সামরিক আশ্রয়কেন্দ্রগুলো৷

একই সঙ্গে ইরানের নিয়মিত সেনাবাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে জানিয়েছে— ইরানের মূল সামরিক স্থাপনা, বেসামরিক নান্দনিক অবকাঠামো এবং সাধারণ নাগরিকদের ওপর যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে বারবার আকাশপথে ও গোপনে হামলা চালিয়ে আসছে৷ ইরানের দাবি অনুযায়ী— মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই ধরনের একতরফা সামরিক হামলা জাতিসংঘ সনদের মৌলিক নীতি ও আন্তর্জাতিক আইনের সম্পূর্ণ “প্রকাশ্য ও নজিরবিহীন লঙ্ঘন”৷

সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সর্বোচ্চ সক্ষমতার হুঁশিয়ারি: ইরানি সেনাবাহিনীর অফিশিয়াল বিবৃতিতে আরও বলা হয়— ইরানের সশস্ত্র বাহিনী দেশের পবিত্র সার্বভৌমত্ব, ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা, স্বাধীনতা এবং সাধারণ জনগণকে যেকোনো ধরনের বৈদেশিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কঠোরভাবে রক্ষা করতে তাদের সর্বোচ্চ ও রানিং সামরিক সক্ষমতা ব্যবহার করবে৷ এ বিষয়ে তারা কোনো প্রকার ছাড় দেবে না৷

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন— এর ঠিক কিছুদিন আগে ইরানের এলিট ফোর্স ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত ‘আলি সালেম’ (Ali Al Salem) এবং ‘আহমদ আল-জাবের’ (Ahmad al-Jaber) বিমান ঘাঁটিতে বড় ধরনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আনুষ্ঠানিক দায় স্বীকার করেছিল৷ তবে এবার সর্বশেষ বিবৃতিতে ইরানের নিয়মিত সেনাবাহিনীও ওই অঞ্চলে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের ঘাঁটিগুলোতে চলমান ও রানিং ড্রোন হামলার দাবি পুনর্ব্যক্ত করায় মধ্যপ্রাচ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা রানিং রূপ নিয়েছে৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *