কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের ফিলিপনগর এলাকায় এক পীরকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মুহাম্মাদ মামুনুল হক। রোববার (১২ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু ও পক্ষপাতহীন তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
বিবৃতিতে মামুনুল হক বলেন, “কোনো অবস্থাতেই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া এবং সহিংসতার আশ্রয় নেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। বিচারহীনতার সংস্কৃতি সমাজে বিশৃঙ্খলা ও অনাস্থা তৈরি করে, যা রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতার জন্য মারাত্মক হুমকি।” তিনি ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব বা স্থানীয় আধিপত্যের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।
মাওলানা মামুনুল হক অভিযোগ করে বলেন, এই বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে ‘তৌহিদি জনতা’ ইত্যাদি শব্দ ব্যবহার করে দেশের বৃহৎ ধর্মপ্রাণ জনগোষ্ঠীকে অপরাধী হিসেবে উপস্থাপনের অপপ্রয়াস চলছে। তিনি বলেন, “একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনার দায় গোটা জনগোষ্ঠীর ওপর চাপানো অন্যায় এবং বিভাজন সৃষ্টিকারী। কিছু মহল একে ইসলামবিদ্বেষী রাজনীতির কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা করছে।”
মাজারের কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, দেশের কিছু মাজারে অসামাজিক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে, যা জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি করে। এসব বিষয় নিরসনে গ্রহণযোগ্য ইসলামিক স্কলারদের সমন্বয়ে একটি নিরপেক্ষ পর্যালোচনা কমিশন গঠনের জন্য তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
বিবৃতিতে তিনি দেশকে বিভাজন ও উত্তেজনার রাজনীতি থেকে রক্ষা করতে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি পক্ষপাতহীন ও উসকানিমূলক শব্দচয়ন পরিহার করার অনুরোধ জানান।
