ক্ষমতার অংশীদার হয়ে ভালো খাওয়াই জামায়াতের রাজনীতি: রাশেদ খানের ফেসবুক পোস্ট

জামায়াতে ইসলামীর তীব্র সমালোচনা করে বিএনপি নেতা রাশেদ খান বলেছেন, প্রকৃত বিরোধী দল হওয়ার মতো কোনো রাজনৈতিক যোগ্যতা জামায়াতের নেই। বরং যেকোনো সরকারের সাথে সমঝোতা করে ক্ষমতার অংশীদার (পার্ট) হওয়ার জন্য জামায়াত একদম ‘পারফেক্ট’।

বুধবার (২০ মে) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন। কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে শুরু করে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে অন্যতম পরিচিত মুখ এবং গণঅধিকার পরিষদ ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দেওয়া এই নেতা জামায়াতের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান ও কৌশল নিয়ে কঠোর বিশ্লেষণ তুলে ধরেন।

ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খান লেখেন, “সরকারের পার্ট হয়ে তাদের লোকজন ব্যবসা-বাণিজ্য করবে, ভালো থাকবে, ভালো খাবে, ভালো পরবে— এই পর্যন্তই তাদের রাজনীতি হওয়া উচিত। এর বাইরে গেলেই জামায়াত খেই হারিয়ে ফেলবে।” এর কারণ হিসেবে তিনি দলটির ঐতিহাসিক হীনমন্যতাকে দায়ী করে বলেন, “তাদের একটি বড় হীনমন্যতা আছে, সেটি হলো ১৯৭১ সাল। একাত্তরের সেই নেতিবাচক ভূমিকা কখনোই তাদের রাজনৈতিকভাবে সামনে এগোতে দেবে না।”

রাশেদ খান আরও দাবি করেন, জামায়াত খুব ভালো করেই জানে যে তারা যদি এককভাবে বড় কোনো রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চায়, তবে একাত্তরের চেতনায় বিশ্বাসী বিশাল জনগোষ্ঠী যেকোনো মূল্যে এক হয়ে ‘জামায়াত ঠেকাও’ ভূমিকায় অবতীর্ণ হবে। আর তেমনটা হলে জামায়াত রাজনৈতিকভাবে পুরোপুরি বিনাশ হয়ে যেতে পারে।

এই আশঙ্কার কারণেই জামায়াত দূরদর্শী কোনো বিরোধী দলের ভূমিকা না নিয়ে ক্ষমতার অংশীদারিত্বের জন্য কৌশলী রাজনীতি করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ক্ষমতার ফেয়ার শেয়ারের (ন্যায্য অংশ) জন্য তারা মাঝেমধ্যে ফণা তুলবে, আবার বাস্তবতা বুঝে কৌশলী হবে। এর বাইরে জামায়াতের আর কিছু করার নেই।”

উল্লেখ্য, সাবেক ছাত্রনেতা রাশেদ খান দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গণঅধিকার পরিষদ ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দেন এবং ঝিনাইদহের একটি আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *