ইরানের দীর্ঘকালীন সর্বোচ্চ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ঐতিহাসিক জানাজার নামাজ ও শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বন্ধুরাষ্ট্র ইরানের রাজধানী তেহরান সফরে যাচ্ছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ৷ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই কূটনৈতিক সফরের তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে৷
আজ পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি ইসলামাবাদে এক নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের জানান— প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ আগামী ৩ থেকে ৫ জুলাই পর্যন্ত ইরান ও তুরস্কের এক সংক্ষিপ্ত কিন্তু অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সফরে থাকবেন৷ এই সফরের মূল লক্ষ্য হচ্ছে ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতার শেষকৃত্যে অংশ নিয়ে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে গভীর শোক ও শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা৷
৩৬ বছরের নেতৃত্বের অবসান ও যুদ্ধের সেই দিন: ৮৬ বছর বয়সী আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি দীর্ঘ ৩৬ বছর ধরে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার পবিত্র দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন৷ বৈশ্বিক রাজনীতিতে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদের একজন কট্টর ও আপসহীন সমালোচক হিসেবে ব্যাপকভাবে পরিচিত ছিলেন৷ গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের একযোগে শুরু করা রক্তক্ষয়ী ক্ষেপণাস্ত্র যুদ্ধের প্রথম দিনেই তেহরানে বিমান হামলায় তিনি শহিদ হন৷ তাঁর এই আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো মুসলিম বিশ্বে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে৷
পাঁচ দিনব্যাপী চলবে শেষকৃত্যের রাষ্ট্রীয় প্রোটোকল: ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে— আয়াতুল্লাহ খামেনির প্রথম জানাজার নামাজ আগামী ৪ঠা জুলাই রাজধানী তেহরানে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে৷ সেখানে বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, কূটনীতিক ও লাখো বিপ্লবী জনতার ঢল নামবে বলে আশা করা হচ্ছে৷ এরপর ধর্মীয় আচার ও শ্রদ্ধা নিবেদনের দীর্ঘ রাষ্ট্রীয় প্রোটোকল শেষে আগামী ৯ই জুলাই ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় মাশহাদ শহরে, যা তাঁর নিজ জন্মস্থান হিসেবে পরিচিত, সেখানে পবিত্র দাফনকাজের মধ্য দিয়ে এই ঐতিহাসিক শেষকৃত্য অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটবে৷
পাকিস্তানের কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে— শাহবাজ শরিফের এই তেহরান সফর কেবলই একটি জানাজায় অংশগ্রহণ নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান রানিং যুদ্ধাবস্থার মাঝে ইরান ও মুসলিম বিশ্বের প্রতি ইসলামাবাদের ভ্রাতৃত্ব ও সংহতি প্রকাশের একটি বড় ভূ-রাজনৈতিক সংকেত৷ ইরান সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী শরিফ তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় যাবেন এবং সেখানে তুর্কি নেতৃত্বের সাথে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য নিয়ে বিশেষ বৈঠকে অংশ নেবেন৷
