জর্ডান পিকফোর্ডের ফেলে যাওয়া পানির বোতলে মিলল মেসিদের বিরুদ্ধে গোপন ছক

চলমান ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের মহাকাব্যিক ও রুদ্ধশ্বাস সেমিফাইনালে শক্তিশালী ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে ওঠার রেশ এখনো কাটেনি৷ মাঠজুড়ে যখন আলবিসেলেস্তেদের বাঁধভাঙা জয়োৎসব ও উন্মাদনা চলছে, ঠিক তখনই মাঠের ভেতর সামনে এলো এক চরম রোমাঞ্চকর ও চমকপ্রদ ঘটনা৷ ম্যাচ শেষে মাঠের ঘাসের ওপর পড়ে থাকা ইংলিশ গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ডের একটি বিশেষ পানির বোতল কুড়িয়ে পান লিওনেল মেসির সতীর্থরা৷ আর সেই বোতলটি হাতে নিতেই চোখ কপালে ওঠে আর্জেন্টাইন ফুটবলারদের, যা বর্তমানে বিশ্ব ফুটবল পাড়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে৷

বোতলে লেখা ছিল পেনাল্টির গোপন এক্স-রে রিপোর্ট: আন্তর্জাতিক ফুটবল ভিত্তিক জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম ‘ওয়ানফুটবল’ (OneFootball) তাদের প্রকাশিত এক চাঞ্চল্যকর বিশেষ প্রতিবেদনে নিশ্চিত করেছে যে— ইংলিশ গোলকিপার পিকফোর্ডের ফেলে যাওয়া ওই পানির বোতলের গায়ে প্রিন্ট করা কাগজে বিস্তারিতভাবে লেখা ছিল সম্ভাব্য টাইব্রেকারের জন্য আর্জেন্টিনার পেনাল্টি শুটারদের নিখুঁত ও গভীর মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ৷

ম্যাচটি যদি নির্ধারিত এবং অতিরিক্ত সময়ে নিষ্পত্তি না হয়ে শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকার বা পেনাল্টি শুটআউটে গড়াত, তবে লিওনেল মেসির দলের শটগুলো রুখে দিতে ইংল্যান্ডের টেকনিক্যাল টিম ও কোচিং স্টাফরা কী ধরনের নিখুঁত ছক কষেছিলেন, তা বোতলের গায়ের সেই নোট দেখেই পরিষ্কার বোঝা গেছে৷

নোটটিতে আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য প্রত্যেক পেনাল্টি শুটারের অতীত পারফরম্যান্সের এক্স-রে রিপোর্ট সাজানো ছিল৷ কোন খেলোয়াড় সাধারণত জালের কোন কোণ দিয়ে শট নিতে পছন্দ করেন, কার শট মাটি ঘেঁষে নিচু হয় আর কার শট জালে জড়ায় উঁচু দিয়ে, কোন শুটারের ক্ষেত্রে গোলকিপারকে লাইনে দাঁড়িয়ে একটু বেশি অপেক্ষা করতে হবে, কখন প্রতিপক্ষকে বিভ্রান্ত করার জন্য চোখের ইশারা বা শারীরিক অঙ্গভঙ্গি ব্যবহার করতে হবে এবং কোন শুটারের শটের সময় জালের ঠিক কোন দিকে ডাইভ বা ঝাঁপ দেওয়া সবচেয়ে কার্যকর হতে পারে— এর সব গোপন গাইডলাইন সেখানে সংকেতের মাধ্যমে লিখে রাখা হয়েছিল৷

আর্জেন্টাইনদের ট্রল ও ভেস্তে যাওয়া পরিকল্পনা: ম্যাচ শেষে মাঠের ভেতর বাঁধভাঙা উদযাপনের সময় আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড় বোতলটি হাতে নিয়ে গভীর মনোযোগ দিয়ে দেখেন এবং বিষয়টি বুঝতে পেরে হাসাহাসিতে মেতে ওঠেন৷ মুহূর্তের মধ্যেই পিকফোর্ডের এই বিশেষ বোতলের ছবি ও ভেতরের তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হু হু করে ছড়িয়ে পড়ে এবং ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে ট্রল ও তুমুল হাসির খোরাক জোগায়৷

বিশ্বকাপের মতো এত বড় ও মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্টে টাইব্রেকারের আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আধুনিক গোলরক্ষকদের এমন ডাটা বা তথ্যভিত্তিক নোট ব্যবহার করা বিশ্ব ফুটবলে নতুন কোনো ঘটনা নয়৷ প্রতিপক্ষের শুটারদের পূর্বের পেনাল্টির ধরন কম্পিউটার ও ভিডিও অ্যানালিসিসের মাধ্যমে নিখুঁতভাবে বিশ্লেষণ করে দলের কোচিং স্টাফরাই মূলত গোলরক্ষকদের এই গোপন তথ্য প্রস্তুত করে দিয়ে থাকেন৷

তবে ইংলিশদের জন্য চরম আফসোসের বিষয় হলো— পিকফোর্ডের কোটি টাকার সেই আধুনিক প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি আর মাঠে কাজে লাগানোর ন্যূনতম সুযোগই পায়নি ইংল্যান্ড৷ ম্যাচের ৮৫ মিনিট পর্যন্ত ১-০ গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ মুহূর্তের মেসি ম্যাজিকে নির্ধারিত ৯০ মিনিটের ভেতরেই ২-১ গোলের অবিশ্বাস্য জয় ছিনিয়ে নেয় আর্জেন্টিনা৷ ফলে ম্যাচটি আর কোনোভাবেই টাইব্রেকার কিংবা পেনাল্টি শুটআউটে গড়ানোর সুযোগ পায়নি৷ থ্রি-লায়ন্সদের টাইব্রেকারে জেতার স্বপ্ন নির্ধারিত সময়েই চূর্ণ হওয়ার পর মাঠের এক কোনায় পড়ে থাকা পিকফোর্ডের সেই ‘গোপন অস্ত্র’ এখন আর্জেন্টিনার ফুটবলারদের ট্রফি জয়ের আনন্দের নতুন অনুষঙ্গে পরিণত হয়েছে৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *