যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে দীর্ঘদিনের বাণিজ্য উত্তেজনা প্রশমন এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে বড় পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চলতি সপ্তাহে তাঁর পরিকল্পিত চীন সফরে সঙ্গী হচ্ছেন বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ১৬ জন প্রযুক্তি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী (CEO)। এই সফরে ঐতিহাসিক বিমান ক্রয় চুক্তি এবং বিনিয়োগ সংক্রান্ত বড় ধরনের ঘোষণা আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, এই হাই-প্রোফাইল প্রতিনিধি দলে রয়েছেন টেসলা ও এক্স-এর মালিক ইলন মাস্ক, অ্যাপলের টিম কুক, বোয়িংয়ের কেলি অর্টবার্গ এবং জিই অ্যারোস্পেসের ল্যারি কাল্প। এছাড়া মেটা, ব্ল্যাকরক, ব্ল্যাকস্টোন, কোয়ালকম, ভিসা এবং মাস্টারকার্ডের মতো বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্তারাও এই সফরে যোগ দিচ্ছেন।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই সফরের প্রধান আকর্ষণ হতে পারে বোয়িংয়ের সঙ্গে চীনের বিশাল এক বাণিজ্যিক চুক্তি। ২০১৭ সালের পর এই প্রথম চীন বড় ধরনের বোয়িং অর্ডার দিতে যাচ্ছে। আলোচনা সফল হলে প্রায় ৫০০টি ‘৭৩৭ ম্যাক্স’ (737 MAX) উড়োজাহাজ এবং জিই ইঞ্জিনচালিত আরও কয়েক ডজন বড় বিমানের অর্ডার পেতে পারে বোয়িং, যা এভিয়েশন ইতিহাসের অন্যতম বড় চুক্তি হিসেবে গণ্য হবে।
সফরে কেবল কেনাকাটা নয়, বরং কৌশলগত বিষয়েও আলোচনা হবে। বিশেষ করে আধুনিক প্রযুক্তির চিপ ও বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারির জন্য অপরিহার্য ‘বিরল খনিজ’ (Rare Earth) সরবরাহ নিয়ে চীনের সঙ্গে একটি সমঝোতা হতে পারে। এর আগে দুই দেশের বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে চীন এসব খনিজ রপ্তানিতে কড়াকড়ি আরোপ করেছিল। গত বছরের অক্টোবরে দক্ষিণ কোরিয়ার বুসানে ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের বৈঠকের পর যে ১২ মাসের শুল্ক স্থগিতাদেশ কার্যকর হয়েছিল, তা আরও বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হতে পারে।
লক্ষণীয়ভাবে, এই সফরে এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াং ডাক পাননি। রয়টার্সের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন এবার কৃষি ও বাণিজ্যিক বিমান খাতকে বেশি অগ্রাধিকার দিচ্ছে, তাই সেমিকন্ডাক্টর খাতকে এই সফরের মূল আলোচনার বাইরে রাখা হয়েছে। তবে জেনসেন হুয়াংয়ের সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্ক যথেষ্ট ঘনিষ্ঠ এবং সম্প্রতি এনভিডিয়ার উন্নত এআই চিপ চীনে রপ্তানির অনুমতিও দিয়েছে তাঁর প্রশাসন।
এই সফরকে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার অর্থনৈতিক শীতল যুদ্ধ অবসানের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখছেন বিশ্ব অর্থনীতিবিদেরা।
