তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর নিজের প্রথম ভাষণে নিজেকে ‘সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি’ হিসেবে তুলে ধরলেন জনপ্রিয় তারকা থেকে রাজনীতিক বনে যাওয়া চন্দ্রশেখর জোসেফ বিজয় (থালাপতি বিজয়)। সোমবার (১১ মে) চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে জমকালো অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তিনি শপথ গ্রহণ করেন। তামিলনাড়ুর গভর্নর রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকার তাঁকে ও তাঁর মন্ত্রিসভার ৯ সদস্যকে শপথ বাক্য পাঠ করান।
বংশপরিচয় ও জনসম্পৃক্ততা: অভিষেক ভাষণে ৫১ বছর বয়সী বিজয় বলেন, “আমি কোনো রাজপরিবার থেকে আসিনি, আমি সাধারণ মানুষ। আর এই সাধারণ পরিচয়ের কারণেই জনগণ আমাকে গ্রহণ করেছে।” তিনি আরও অঙ্গীকার করেন যে, তিনি মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে জনগণকে প্রতারিত করবেন না এবং রাজ্যে ‘প্রকৃত ধর্মনিরপেক্ষ ও সামাজিক ন্যায়বিচারের’ এক নতুন যুগ সূচনা করবেন।
ক্ষমতার কেন্দ্র ও জোট রাজনীতি: তামিলনাড়ুর ইতিহাসে প্রথমবারের মতো জোট সরকার গঠিত হলেও থালাপতি বিজয় স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, জোটসঙ্গীদের চাপে তিনি মাথা নত করবেন না। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, “আমি ছাড়া ক্ষমতার অন্য কোনো কেন্দ্র থাকবে না। আমিই হব ক্ষমতার একমাত্র কেন্দ্র।” এর মাধ্যমে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, সরকারের সব নীতির জন্য তিনি নিজেই জনগণের কাছে জবাবদিহি করবেন।
প্রথম দিনেই বড় ঘোষণা: শপথ গ্রহণের পরপরই সচিবালয়ে গিয়ে কাজে যোগ দেন বিজয়। প্রথম সরকারি আদেশে তিনি আবাসিক গ্রাহকদের জন্য ২০০ ইউনিট পর্যন্ত বিনামূল্যে বিদ্যুৎ দেওয়ার নির্দেশনা দেন। এছাড়া নারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে একটি ‘বিশেষ বাহিনী’ গঠনের আদেশ জারি করেছেন তিনি।
রাজনৈতিক সমীকরণ: নির্বাচনে বিজয়ের দল ‘তামিলাগা ভেটরি কাজাগাম’ (টিভিকে) ১০৭টি আসনে জয় পায়। পরবর্তীতে কংগ্রেসসহ কয়েকটি দলের সমর্থনে ১২০টি আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জোট সরকার গঠন করেন তিনি। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে রাহুল গান্ধীসহ বিজেপি ও অন্যান্য দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিজয়কে অভিনন্দন জানিয়ে তামিলনাড়ুর উন্নয়নে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
