তারাবি নামাজের নিয়ম, নিয়ত

রোযার মাসের গুরুত্বপূর্ণ আমল তারাবি নামাজ। তারাবির নামাজ দেহ ও মনে প্রশান্তি এনে দেয়। গুনাহ মাফের সুযোগ করে দেয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করেছেন এবং আমি তোমাদের জন্য তারাবি নামাজ সুন্নত করেছি।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ইমানের সঙ্গে এবং সওয়াবের আশা নিয়ে রমজানে তারাবি নামাজ পড়বে, তার আগের সব গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩৬)

তারাবি নামাজের অর্থ –
তারাবিহ’ (تراويح) শব্দটি আরবি ‘তারবিহাহ’ (ترويحة) শব্দের বহুবচন, যার অর্থ বিশ্রাম নেওয়া বা প্রশান্তি লাভ করা। রমজান মাসে এশার ফরজ ও সুন্নতের পর এবং বিতর নামাজের আগে এই বিশেষ সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ নামাজ আদায় করা হয়। প্রতি চার রাকাত পরপর কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে ও তাসবিহ পাঠ করে দীর্ঘ বিরতি নেওয়ার মাধ্যমে দেহ ও মনে প্রশান্তি দেয় বলে একে ‘তারাবিহ’ বা প্রশান্তির নামাজ বলা হয়।

তারাবি নামাজের নিয়ত
নিয়ত হলো মানুষের অন্তরের ইচ্ছা। নামাজের জন্য দাঁড়ালে একজন মুসল্লির মনে সচেতনভাবে থাকে—তিনি কোন ওয়াক্তের কোন নামাজ আদায় করছেন। তারাবির নামাজ আদায়ের জন্য দাঁড়িয়েছি—এই মনের ইচ্ছাটাই নিয়ত।

نَوَيْتُ اَنْ اُصَلِّىَ للهِ تَعَالَى رَكْعَتَى صَلَوةِ التَّرَاوِيْحِ سُنَّةُ رَسُوْلِ اللهِ تَعَالَى مُتَوَجِّهًا اِلَى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِيْفَةِ اللهُ اَكْبَرْ

উচ্চারণ : নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তাআলা, রাকায়াতাই সালাতিত তারাবিহ সুন্নাতু রাসুলিল্লাহি তাআলা, মুতা ওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কাবাতি শারিফাতি, আল্লাহু আকবার।
অর্থ : আমি কেবলামুখি হয়ে দুই রাকাত তারাবির সুন্নতে মুয়াক্কাদা নামাজের নিয়ত করছি। আল্লাহু আকবার।

তারাবি নামাজের নিয়ম –
এশার নামাজের ফরজ ও সুন্নত আদায়ের পর এবং বিতরের আগে তারাবি নামাজ পড়া হয়। তারাবি দুই রাকাত করে আদায় করতে হয় এবং প্রতি দুই রাকাত শেষে সালাম ফিরানো হয়।
চার রাকাত আদায়ের পর কিছু সময় বিশ্রাম নেওয়া সুন্নত। এই বিরতিতে বিভিন্ন দোয়া, মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর দরুদ পাঠ এবং জিকির করা উত্তম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *