আগামীকাল সোমবার (১ জুন) শেষ হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহার দীর্ঘ সরকারি ছুটি। ছুটি শেষ হওয়ার আগের দিন আজ রবিবার সকাল থেকেই প্রিয়জনদের সাথে ঈদ উদযাপন শেষে কর্মব্যস্ত রাজধানী ঢাকায় পুনরায় ফিরতে শুরু করেছে নগরবাসী। তবে বিগত অন্যান্য বছরের ফিরতি যাত্রার সাথে তুলনা করলে দেখা যাচ্ছে, এবার ঢাকা ফেরার পথে যাত্রী সাধারণের উপচে পড়া চাপ তুলনামূলকভাবে অনেকটাই কম। দেশের সড়ক, রেল ও নৌপথের কোথাও কোনো বড় ধরনের ভোগান্তি ছাড়াই বেশ স্বস্তিতেই রাজধানীতে প্রবেশ করছে মানুষ।
আজ রবিবার সকাল থেকেই রাজধানীমুখী বিভিন্ন গণপরিবহনে দূর-দূরান্তের যাত্রীরা ঢাকায় আসতে শুরু করেন। তবে রাজধানীর প্রধান প্রধান প্রবেশপথ— বিশেষ করে গাবতলী, সায়েদাবাদ ও মহাখালী বাস টার্মিনাল, কমলাপুর রেলস্টেশন এবং সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালের কোথাও চিরচেনা জনসমুদ্র বা উপচে পড়া ভিড় চোখে পড়েনি। যাত্রীরা কোনো ঝক্কি-ঝামেলা ছাড়াই সহজে স্টেশনে নামতে পারছেন।
আজ সকালে ঢাকার সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে এসে পৌঁছানো দেশের দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীরা জানান, এবারের নদীপথের যাত্রা ছিল অত্যন্ত আরামদায়ক ও স্বস্তিদায়ক। লঞ্চগুলোতে পর্যাপ্ত যাত্রী থাকলেও অতিরিক্ত ভিড় বা গাদাগাদি করে ওঠার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। ফলে কোনো ধরনের অতিরিক্ত ভোগান্তি ছাড়াই তারা ঘাটে পৌঁছাতে পেরেছেন।
সকালে রাজধানীর গাবতলী ও মহাখালী বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা যায়, ময়মনসিংহ, শেরপুর, জামালপুর, কিশোরগঞ্জ, গাজীপুরসহ ঢাকার চারপাশের আশপাশের জেলাগুলো থেকে আসা দূরপাল্লার বাসগুলোতে যাত্রীর চাপ একদম স্বাভাবিক রয়েছে।
পরিবহন খাতের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও চালকরা বলছেন, এবার ঈদের সরকারি ছুটি বেশ দীর্ঘ সময় জুড়ে থাকায় মানুষ এক দিনে হুড়োহুড়ি করে না ফিরে ধাপে ধাপে স্বাচ্ছন্দ্যে রাজধানীতে ফিরছে। মূলত এই কারণে ফিরতি যাত্রার স্বাভাবিক চাপটি কয়েক দিনের মধ্যে সুন্দরভাবে ছড়িয়ে গেছে, যার ফলে এবার কোনো রুটে বড় ধরনের ট্রাফিক জ্যাম বা যাত্রী ভোগান্তি তৈরি হয়নি।
