ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেওয়া অন্যতম বড় প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে সরকার। আগামী ১০ মার্চ থেকে দেশব্যাপী পরীক্ষামূলকভাবে চালু হচ্ছে বহুল প্রতিক্ষিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি। প্রথম ধাপে রাজধানীর কড়াইল বস্তিসহ দেশের ১৩টি উপজেলার একটি করে ইউনিয়নে এই কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হবে।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
সরকার ‘ফ্যামিলি কার্ড নীতিমালা’ চূড়ান্ত করেছে, যেখানে স্পষ্ট করা হয়েছে যে এই সুবিধা সবার জন্য উন্মুক্ত নয়। সমাজের সচ্ছল অংশকে বাদ দিয়ে মূলত প্রকৃত অভাবী ও সুবিধাবঞ্চিতদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, সুনির্দিষ্ট ৬ শ্রেণির মানুষকে ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধার বাইরে রাখা হয়েছে।
তালিকার বাইরে যারাঃ-
১. পেনশনভোগী: পরিবারের কোনো সদস্য সরকারি পেনশনভোগী হলে ওই পরিবার কার্ড পাবে না।
২. এসি ব্যবহারকারী: সচ্ছলতার প্রমাণ হিসেবে বাড়িতে এসি বা এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহারকারীরা তালিকার বাইরে থাকবেন।
৩. গাড়ির মালিক: ব্যক্তিগত গাড়ি বা বিলাসবহুল সম্পদের মালিকরা এই সুবিধা পাবেন না।
৪. সরকারি চাকরিজীবী: পরিবারের কোনো সদস্য সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত থাকলে তারা ফ্যামিলি কার্ড পাবেন না।
৫. ট্রেড লাইসেন্সধারী: পরিবারের কারও নামে বাণিজ্যিক লাইসেন্স বা ট্রেড লাইসেন্স থাকলে তারা অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।
৬. বড় ব্যবসায়ী: যাদের বড় ব্যবসা বা মোটা অঙ্কের আয়ের উৎস রয়েছে, তারা এই কার্ড পাবেন না।
প্রথম ধাপের কার্যক্রম –
সমাজকল্যাণমন্ত্রী জানান, আগামী ১০ মার্চ থেকে পরীক্ষামূলকভাবে এই কর্মসূচি শুরু হবে। রাজধানীর কড়াইল বস্তির পাশাপাশি দেশের নির্বাচিত ১৩টি উপজেলার একটি করে ইউনিয়নে প্রাথমিক এই কার্যক্রম চলবে। এই স্তরে সফল হলে পর্যায়ক্রমে সারা দেশে কার্ড বিতরণ করা হবে।
