বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা গ্রুপের নয়, এটি দেশের সাধারণ জনগণের—এমন মন্তব্য করেছেন বিসিবির অ্যাডহক কমিটির সদস্য ও ফাইন্যান্স কমিটির প্রধান ইসরাফিল খসরু। সম্প্রতি বিসিবির ‘চার-ছক্কা’ পডকাস্টে অংশ নিয়ে দেশের ক্রিকেটের সার্বিক উন্নয়ন, অবকাঠামো এবং ক্রিকেটারদের বকেয়া পরিশোধ প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।
ক্রিকেটে নীতিনির্ধারণী ও কাঠামোগত স্থিরতা আসার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে ইসরাফিল খসরু বলেন, “ক্রিকেট বোর্ডের মূল কাজ খুবই সহজ—খেলোয়াড়দের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা দেওয়া এবং সঠিক অবকাঠামোগত সাপোর্ট নিশ্চিত করা। এই নীতি বজায় থাকলে ক্রিকেট বোর্ড প্রকৃত অর্থেই জনগণের ক্রিকেট বোর্ডে পরিণত হবে। কারণ বাংলাদেশের মানুষের ডিএনএ-তে ক্রিকেট মিশে আছে।”
বিসিবি ফাইন্যান্স কমিটির প্রধান দেশের ক্রিকেটের পাইপলাইন শক্তিশালী করার ওপর জোর দিয়ে বলেন, “দীর্ঘ যাত্রা সত্ত্বেও আমরা ট্রেনিং অবকাঠামো সেভাবে উন্নত করতে পারিনি। আমাদের আরও ভালো অবকাঠামো ও একাডেমি দরকার। সবচেয়ে বড় কথা, নিয়মিত খেলা মাঠে গড়াতে হবে। অনেক জায়গায় বছরের পর বছর লিগ হচ্ছে না। খেলা না হলে নতুন খেলোয়াড় কিংবা পাইপলাইন আসবে কোথা থেকে? বিসিবির অন্যতম বড় দায়িত্ব হলো বিভাগীয় ও স্থানীয় লিগগুলো মাঠে নামানো এবং মাঠের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো।”
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) খেলোয়াড়দের বকেয়া টাকা পরিশোধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর বিপিএলের অনেক বকেয়া ছিল। আমরা উদ্যোগ নিয়ে সেগুলো দ্রুত ক্লিয়ার করার চেষ্টা করেছি। ক্রিকেটারদের বাদ দিয়ে দেশের ক্রিকেটকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তাদের পাওনা বুঝিয়ে দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। খেলোয়াড়রা যখন দেখবে বোর্ড তাদের পাশে আছে, তখন তারা মাঠের পারফরম্যান্সে আরও অনুপ্রাণিত হবে।”
উল্লেখ্য, বর্তমানে ১১ সদস্যের একটি অ্যাডহক কমিটির নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছে বিসিবি, যেখানে সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন তামিম ইকবাল। আগামী ৭ জুন বিসিবির বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যার পর নির্বাচিত পরিচালকদের নিয়ে গঠিত হবে নতুন বোর্ড।
