নেইমারকে নিয়ে আনচেলত্তির বিশেষ ছক: নরওয়ের বিপক্ষে মহাযুদ্ধের আগে ব্রাজিলের একাদশ নিয়ে বড় বার্তা

চলমান ফুটবল বিশ্বকাপের শেষ ষোলো বা রাউন্ড অব সিক্সটিনের হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে ইউরোপীয় পরাশক্তি নরওয়ের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল৷ মাঠের এই বাঁচা-মরার লড়াইয়ের আগে ফুটবলবিশ্বের সবচেয়ে বড় কৌতূহল ছিল— ব্রাজিলের পোস্টার বয় নেইমার জুনিয়র শুরুর একাদশে থাকবেন কি না? ম্যাচের ঠিক আগমুহূর্তে সেই ধোঁয়াশা পুরোপুরি পরিষ্কার করেছেন সেলেসাওদের হেড কোচ কার্লো আনচেলত্তি৷ তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, অভিজ্ঞ এই ফরোয়ার্ডকে ম্যাচের শুরু থেকে না খেলিয়ে পরিস্থিতি অনুযায়ী ‘সুপার-সাব’ বা বদলি খেলোয়াড় হিসেবে ব্যবহার করার বিশেষ কৌশলগত পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর৷

বাংলাদেশ সময় আগামী সোমবার (৬ জুলাই) রাত ২টায় নিউ জার্সির স্টেডিয়ামে নরওয়ের মুখোমুখি হবে ব্রাজিল৷

ভূমিকা নিয়ে অসন্তুষ্ট নেইমার, তবে শান্ত: গ্রুপ পর্বে চোটের কারণে খুব অল্প সময় মাঠে নামার সুযোগ পাওয়া নেইমার নিজের এই সীমিত ভূমিকা নিয়ে একদমই সন্তুষ্ট নন বলে সরাসরি স্বীকার করেছেন আনচেলত্তি৷ তবে ইতালিয়ান এই মাস্টারমাইন্ড কোচ বলেন— দলের বৃহত্তর স্বার্থে এবং ট্যাকটিক্যাল কারণে নেওয়া এই সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সঙ্গে মেনে নিয়েছেন ব্রাজিলের ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা৷

ব্রাজিলিয়ান শীর্ষ সংবাদমাধ্যম ‘ফোলহা দে সাও পাওলো’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে কার্লো আনচেলত্তি বলেন— “নেইমার পুরোপুরি সন্তুষ্ট নয়, কারণ সে একজন চ্যাম্পিয়ন খেলোয়াড় এবং সব ম্যাচেই শুরু থেকে খেলতে চায়৷ কিন্তু সে বর্তমান পরিস্থিতি বোঝে, শান্ত আছে এবং অনুশীলনে নিজের সেরাটা দিচ্ছে৷ দলের তরুণদের মধ্যে তার প্রভাব দারুণ ইতিবাচক৷ সতীর্থরা তাকে অনেক সম্মান করে এবং ব্যক্তি হিসেবেও সে অসাধারণ৷ তাকে এই স্কোয়াডে পেয়ে আমি খুবই খুশি৷”

পুরো ৯০ মিনিটের ফিটনেস নেই: ডান পায়ের কাফের চোট (Calf Injury) নিয়ে এক প্রকার ঝুঁকি নিয়েই চলতি বিশ্বকাপ খেলছেন ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড তারকা৷ আনচেলত্তি জানান— নেইমার এখন মানসিকভাবে মাঠে নামার জন্য প্রস্তুত থাকলেও পুরো ৯০ মিনিট উচ্চ তীব্রতার ম্যাচ খেলার মতো ম্যাচ ফিটনেস এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত নয়৷

কোচ বলেন— “সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নেইমার এখন খেলার জন্য ফিট৷ তবে সে কতক্ষণ একটানা খেলতে পারবে, সেটা নিশ্চিত করে বলা কঠিন৷ ম্যাচের গতি, ট্যাকটিক্স ও পরিস্থিতি বুঝে যখনই দলের গোল বা আক্রমণাত্মক ধার বাড়ানো প্রয়োজন হবে, তখনই তাকে মাঠে নামানো হবে৷” উল্লেখ্য— এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত মাত্র একটি ম্যাচে মাঠে নামার সুযোগ পেয়েছেন নেইমার৷ গ্রুপ পর্বে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ের শেষ ১৪ মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে ছিলেন তিনি৷

ইউরোপীয় জুজু ও নরওয়ে নামক ডেডলক ভাঙার লক্ষ্য: ব্রাজিলের সামনে এবারের মিশনটি মোটেও সহজ নয়, কারণ পরিসংখ্যান সেলেসাওদের পক্ষে কথা বলছে না৷ দুই দলের পূর্ববর্তী চারবারের দেখায় একবারও নরওয়েকে হারাতে পারেনি পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নেরা৷ এর মধ্যে দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে এবং বাকি দুটি জিতেছে নরওয়ে৷

এছাড়া আরও একটি ভয়ংকর পরিসংখ্যান তাড়া করছে সেলেসাওদের৷ ২০০২ সালে সর্বশেষ বিশ্বকাপ জয়ের পর দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে কোনো ইউরোপীয় দেশের বিপক্ষে জয় পায়নি ব্রাজিল৷ সেই ঐতিহাসিক ব্যর্থতা ও হতাশার ব্ল্যাক হোল বদলানোর লক্ষ্য নিয়েই এবার মাঠে নামবে সেলেসাওরা৷ নরওয়েকে কঠিন প্রতিপক্ষ উল্লেখ করে আনচেলত্তি বলেন— “নরওয়ের বিপক্ষে খেলাটা সবসময়ই কঠিন৷ তারা রক্ষণভাগে খুবই সংগঠিত৷ আমরা সব ধরনের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিয়েছি৷ হয়তো ম্যাচের শুরুতে গোল হজমও করতে পারি, কিন্তু সেখান থেকে কীভাবে কামব্যাক করতে হবে, সেটাও আমাদের রানিং পরিকল্পনায় রয়েছে৷”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *