বাহরাইনে মার্কিন ৫ম নৌবহরে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

মধ্যপ্রাচ্যের স্পর্শকাতর জলসীমায় তীব্র সংঘাতের জের ধরে বাহরাইনে অবস্থানরত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত শক্তিশালী পঞ্চম নৌবহরের (U.S. 5th Fleet) প্রধান সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ড্রোন ও গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্রের সমন্বয়ে এক ভয়াবহ ও বিধ্বংসী হামলা চালিয়েছে ইরানের এলিট ফোর্স ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)৷ ইরানি বাহিনী এই হামলাকে মার্কিন ও পশ্চিমা আগ্রাসনের বিরুদ্ধে একটি জুতসই ও সুনির্দিষ্ট ‘প্রতিশোধমূলক সামরিক অভিযান’ হিসেবে অভিহিত করেছে৷ আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) আইআরজিসির তরফ থেকে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক সামরিক বিবৃতিতে এই চাঞ্চল্যকর হামলার তথ্য প্রকাশ করা হয়৷

মার্কিন জ্বালানি সংরক্ষণাগারে আগুন ও রাডার ধ্বংস: আইআরজিসির প্রকাশিত বিবৃতিতে সুনির্দিষ্টভাবে দাবি করা হয়েছে— বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের প্রধান ঘাঁটি লক্ষ্য করে এই ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের সমন্বিত হামলাটি চালানো হয়৷ ইরানের এই সফল ও নিখুঁত আঘাতের ফলে মার্কিন নৌঘাঁটির ভেতরের একটি অন্যতম প্রধান জ্বালানি সংরক্ষণাগারে (Fuel Depot) মুহূর্তের মধ্যে ভয়াবহ আগুন ধরে যায়৷

এ ছাড়া ইরানি কমান্ডো ও ক্ষেপণাস্ত্র উইং দাবি করেছে যে— এই বিশেষ বিমান হামলার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক ও আকাশ প্রতিরক্ষার মূল চালিকাশক্তি ‘প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা রাডার’ এবং পঞ্চম নৌবহরের প্রধান এয়ার কন্ট্রোল রাডারটি সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়া সম্ভব হয়েছে৷ একই সাথে ঘাঁটির সুরক্ষায় নিয়োজিত একটি ‘সি-র‍্যাম’ (C-RAM) আগাম সতর্কীকরণ রাডার ব্যবস্থা এবং সমুদ্রে মার্কিন চালকবিহীন নৌযান বা মানববিহীন সারফেস ভেসেল নিয়ন্ত্রণ ও পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রটিও ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ধূলিসাৎ করা হয়েছে৷ আইআরজিসি তাদের বিবৃতিতে স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে— মার্কিন আগ্রাসন ও সাম্প্রতিক হামলার বিরুদ্ধে তাদের এই প্রতিশোধমূলক সামরিক অভিযান আগামী দিনগুলোতেও আরও দ্বিগুণ শক্তি নিয়ে অব্যাহত থাকবে৷

পেন্টাগনের নীরবতা ও অস্পষ্টতা: এদিকে আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও রণক্ষেত্রের পরিস্থিতি অনুযায়ী— ইরানের এই চাঞ্চল্যকর সামরিক দাবির সত্যতা এখনো কোনো আন্তর্জাতিক বা নিরপেক্ষ সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি৷ বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলার তীব্রতা এবং রাডার ধ্বংসের এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন) কিংবা বাহরাইন সরকারের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা কোনো মন্তব্য করা হয়নি৷ আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে— মার্কিন পঞ্চম নৌবহরে সরাসরি ইরানের এই ধরনের আঘাত মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে এক অনির্দিষ্টকালের সর্বাত্মক যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিল৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *