চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপে মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি আর্জেন্টিনার ম্যাচগুলোতে রেফারিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফুটবল বিশ্বে চলছে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা৷ ফুটবলপ্রেমী ও সমালোচকদের একাংশের প্রকাশ্য অভিযোগ— মাঠের রেফারিরা নাকি লিওনেল মেসিদের দলকে বাড়তি সুবিধা দিচ্ছেন৷ বিশেষ করে নকআউট পর্বের শেষ ষোলোর ম্যাচে মিশরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনা একচেটিয়া রেফারিং সুবিধা পেয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল বিতর্কের ঝড় ওঠে৷ তবে কোয়ার্টার ফাইনালের মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে এই সমস্ত অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও সস্তা অপপ্রচার বলে উড়িয়ে দিয়েছেন আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি৷
১৯৮৬ সালের উদাহরণ ও সমালোচকদের জবাব: আগামীকাল রোববার (১২ জুলাই) ২০২৬ বিশ্বকাপের অত্যন্ত রোমাঞ্চকর কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা৷ এই ব্লকবাস্টার ম্যাচের আগে আয়োজিত অফিসিয়াল রানিং সংবাদ সম্মেলনে রেফারিং বিতর্ক, ভিএআর প্রযুক্তি, ভ্রমণজনিত ক্লান্তি এবং টুর্নামেন্টের ব্যস্ত ম্যাচসূচি নিয়ে নিজের কড়া অবস্থান তুলে ধরেন স্কালোনি৷ রেফারিদের পক্ষপাতের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি সোজাসাপ্টা ভাষায় বলেন— এই ধরনের সমালোচনা আর্জেন্টিনার ফুটবলের জন্য একেবারেই নতুন কিছু নয়৷ স্কালোনির ভাষায়— “সেই ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপ জয়ের সময়ও বিশ্বজুড়ে বলা হতো আমরা নাকি বিশেষ সুবিধা পাচ্ছি৷ তাই এই কথা আমাদের কাছে নতুন কিছু নয়৷ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা সব সময়ই পরাশক্তি ও শক্তিশালী দল ছিল৷ আসলে আসল সত্য হলো— অনেকেই মনেপ্রাণে চায় না আমরা জিতি৷ আমাদের খেলোয়াড়রা এই নেতিবাচক বিষয়টি খুব ভালো করেই জানে এবং তারা মাঠের ভেতর এটিকে আরও ভালো ফুটবল খেলার ইতিবাচক অনুপ্রেরণা হিসেবে ব্যবহার করে৷”
ভিএআর প্রযুক্তি ও মিশরের বাতিল গোল প্রসঙ্গ: বর্তমান আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর ফুটবলে ইচ্ছাকৃতভাবে বা আড়ালে কোনো দলকে অনৈতিক সুবিধা দেওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন আর্জেন্টাইন মাস্টারমাইন্ড৷ স্কালোনি বলেন— “বর্তমান ভিএআর (VAR) প্রযুক্তির যুগে মাঠে কাউকে অন্যায্যভাবে সাহায্য করা খুবই কঠিন ও জটিল কাজ৷ কারণ এখানে ক্যামেরার একাধিক ফ্রেমের কারণে যেকোনো সিদ্ধান্তের দ্বৈত ব্যাখ্যার সুযোগ খুবই সীমিত ও সংকুচিত৷” মিশরের বিপক্ষে ম্যাচে বাতিল হওয়া গোল নিয়ে বিতর্কের কড়া জবাব টেনে আর্জেন্টিনা কোচ যুক্তি দেখান— “ঐ ম্যাচে লিসান্দ্রো মার্টিনেজের পায়ে প্রতিপক্ষের আফ্রিকান খেলোয়াড় সরাসরি আঘাত করেছিল৷ আঘাতের তীব্রতা কম হোক বা বেশি, ফুটবলের নিয়মানুযায়ী সেটি স্পষ্ট ফাউল৷ এর বাইরে অন্য কোনো মনগড়া ব্যাখ্যা হতে পারে না৷”
তিনি আরও যোগ করেন— “আর্জেন্টিনাকে বাড়তি সুবিধা দেওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না, এখানে কোনো ধরনের পক্ষপাত নেই৷ এসব মুখরোচক বিষয় মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরঞ্জিত ও কৃত্রিমভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হয়৷ এখন ছোট একটি ঘটনাকেও বড় করে দেখার প্রবণতা চলছে৷ ফুটবলে রেফারিদের কাছ থেকে ‘সাহায্য’ বলে আদতে কিছু নেই৷ ২০২৬ সালে এসে এত উচ্চ প্রযুক্তির মধ্যে তা করা মোটেও সম্ভব নয়৷ ফুটবলীয় নিয়ম পরিষ্কার এবং অন-ফিল্ড সিদ্ধান্তও সেই নিয়ম মেনেই নেওয়া হয়৷”
বিশ্বকাপ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল ভৌগোলিক দূরত্বের কারণে দীর্ঘ ভ্রমণের ধকল নিয়ে স্কালোনি স্বস্তি প্রকাশ করে বলেন— “সৌভাগ্যবশত আমাদের অন্য অনেক প্রতিযোগী দলের মতো আকাশপথে এত বেশি দীর্ঘ ভ্রমণ করতে হয়নি৷ আমরা যদি গ্রুপ পর্বে রানার্স-আপ বা দ্বিতীয় হতাম, তাহলে পুরো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডাজুড়ে বিমানে অনবরত ভ্রমণ করতে হতো, যা নকআউটের আগে খেলোয়াড়দের জন্য চরম ক্লান্তিকর ও রানিং পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলত৷” সুইজারল্যান্ডকে সমীহ করলেও সেমিফাইনালের টিকিট কাটতে আলবিসেলেস্তেরা শতভাগ প্রস্তুত বলে হুঙ্কার দিয়ে রেখেছেন স্কালোনি৷
