লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় গত ২৪ জুনের স্মরণকালের সবচেয়ে শক্তিশালী ও বিধ্বংসী জোড়া ভূমিকম্পের ক্ষত ক্রমেই আরও স্পষ্ট ও ভয়াবহ হয়ে উঠছে৷ উদ্ধারকাজ চলার সাথে সাথে নিহতের সংখ্যা নজিরবিহীনভাবে বৃদ্ধি পেয়ে এ পর্যন্ত ৪ হাজার ৫৬১ জনে দাঁড়িয়েছে৷ আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) তুরস্কের সরকারি সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির এক বিশেষ আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে৷ ভূমিকম্পের ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও বহু মানুষ নিখোঁজ থাকায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে৷
ক্ষয়ক্ষতি ও জরুরি মানবিক তৎপরতা: ভেনেজুয়েলার ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির প্রেসিডেন্ট জর্জ রদ্রিগেজ দেশটির বর্তমান ভয়াবহ পরিস্থিতি তুলে ধরে জানিয়েছেন— এই জোড়া ভূমিকম্পে মোট ১৬ হাজার ৭৪০ জন মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন৷ সংকটপূর্ণ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এ পর্যন্ত ১ লাখ ২৮ হাজার ৩২৪টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে জরুরি খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করেছে৷ এ ছাড়া গৃহহীন হয়ে পড়া ২০ হাজার ২৩১ জন নাগরিকের তাৎক্ষণিক পুনর্বাসনের জন্য দেশজুড়ে মোট ১০৭টি অস্থায়ী আশ্রয়শিবির স্থাপন করা হয়েছে; যেখানে বর্তমানে ১৭ হাজার ৯০৭ জন মানুষ চরম আশ্রহীন অবস্থায় বসবাস করছেন৷ জর্জ রদ্রিগেজ আরও জানান যে— ভূমিকম্পের তীব্র কম্পনে ভেনেজুয়েলার উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোর ৮৫৬টি বহুতল ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে ১৯০টি বড় ভবন সম্পূর্ণ ধসে ধূলিসাৎ হয়ে গেছে৷
ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ও ইউএসজিএসের গভীর আশঙ্কা: মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস-USGS) জানিয়েছে— গত ২৪ জুন দক্ষিণ আমেরিকার তেলসমৃদ্ধ এই দেশে রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি অত্যন্ত শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে৷ ভেনেজুয়েলার উত্তরাঞ্চলীয় উপকূলীয় অঞ্চলটি ছিল এই শক্তিশালী ভূমিকম্পের মূল কেন্দ্রস্থল বা এপিসেন্টার (Epicenter)৷ ওই উপকূলীয় অঞ্চলে ভেনেজুয়েলার বেশ কয়েকটি বৃহত্তম রাষ্ট্রীয় তেল শোধনাগার এবং বন্দর থাকায় দেশের জ্বালানি ও অর্থনৈতিক খাতে বড় ধরনের ধস নেমেছে৷
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের বিশেষ সম্প্রচারে বলা হয়েছে— ভূমিকম্পের তীব্র ঝটকায় রাজধানী কারাকাসসহ বিভিন্ন প্রধান প্রধান শহর এবং গ্রামীণ এলাকা ধূলিসাৎ হয়ে গেছে৷ ইউএসজিএসের এক বিবৃতিতে সতর্ক করে বলা হয়েছে যে— নিহতের চূড়ান্ত সংখ্যা শেষ পর্যন্ত ১০ হাজার বা তার চেয়েও বেশি ছাড়িয়ে যেতে পারে৷ এর পেছনের কারণ হিসেবে তারা জানিয়েছে যে ভেনেজুয়েলার অধিকাংশ আবাসিক ভবন ও ঘরবাড়ি আধুনিক ভূমিকম্প সহনশীল (Earthquake resistant) প্রযুক্তি অনুসরণ করে তৈরি করা হয়নি৷ ফলে মাঝারি কম্পনেই শত শত কংক্রিটের ভবন তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে, যা বর্তমান ধ্বংসলীলাকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে৷
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
