মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার তেঁতুলবাড়ীয়া সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে ৬ জনকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পুশইন করার চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং স্থানীয় গ্রামবাসী। এই ঘটনার পর আজ শনিবার (৬ জুন) ভোর থেকে সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য মোতায়েন করার পাশাপাশি কঠোর নজরদারি অব্যাহত রাখা হয়েছে। বর্তমানে পুশইনের শিকার হওয়া ওই ৬ জন ব্যক্তি কাঁটাতারের বেড়ার পাশে ভারতীয় ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন।
স্থানীয় সূত্র ও বিজিবি জানায়, সীমান্তের মেইন পিলার ১০৪-এর সাব-পিলার ৫-এর নিকটবর্তী তেঁতুলবাড়ীয়া গ্রামের হাটপাড়া সীমান্ত দিয়ে ওই ৬ জনকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করানোর চেষ্টা চালায় বিএসএফ। তবে বিজিবি সদস্য এবং সজাগ স্থানীয় গ্রামবাসীরা তাৎক্ষণিকভাবে সীমান্তে ব্যারিকেড ও প্রতিরোধ গড়ে তুললে তারা বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে পারেনি। অনুপ্রবেশের চেষ্টা করা ওই ৬ জনের দলের মধ্যে ৩ জন পুরুষ, ২ জন নারী এবং ১ জন শিশু রয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বিএসএফ সদস্যরা সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়ার একটি নির্দিষ্ট অংশ খুলে দিয়ে ওই ব্যক্তিদের জোরপূর্বক বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। তারা হেঁটে বাংলাদেশের সীমানায় পা রাখার চেষ্টা করলেই বিজিবি ও গ্রামবাসী যৌথভাবে বাধা দেয়। প্রতিরোধের মুখে তারা কাঁটাতারের বেড়ার কাছে ফিরে গেলেও বিএসএফ তাদের পুনরায় নিজেদের ক্যাম্প বা ভূখণ্ডে গ্রহণ করেনি। ফলে তারা দুই দেশের মাঝখানে সীমান্তের ভারতীয় অংশে আটকা পড়েছেন।
বর্তমানে সীমান্তের ওপারে বিএসএফ এবং এপারে বিজিবি ও স্থানীয় গ্রামবাসীরা মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বিজিবি হ্যান্ড মাইকে ঘোষণা দিয়ে পুশইন প্রতিরোধ করছে। একই সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য বিএসএফকে বারবার আহ্বান জানাচ্ছে বিজিবি কর্তৃপক্ষ। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিএসএফের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো সাড়া বা ইতিবাচক জবাব পাওয়া যায়নি।
তেঁতুলবাড়ীয়া বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়েছেন, অবৈধ কোনো অনুপ্রবেশ কিংবা পুশইন বাংলাদেশ কোনো অবস্থাতেই মেনে নেবে না। সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবি বর্তমানে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে (হাই অ্যালার্ট) রয়েছে।
