রণক্ষেত্রে নামানো হয়নি এমন ‘গোপন অস্ত্র’ রয়েছে আমাদের: যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানি সামরিক বাহিনীর হুঁশিয়ারি

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক হামলার হুমকির মাঝেই বিস্ফোরক দাবি করেছে তেহরান। ইরানের সামরিক বাহিনীর একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, দেশটির কাছে এমন কিছু নিজস্ব প্রযুক্তির অত্যাধুনিক ও শক্তিশালী অস্ত্র রয়েছে যা তারা এখনো যুদ্ধক্ষেত্রে মোতায়েন বা ব্যবহার করেনি।

আমেরিকার সম্ভাব্য বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে ইরানের সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ‘আরআইএ নভোস্তি’ (RIA Novosti)-কে এক বিশেষ সাক্ষাৎকার দিয়েছেন ওই ইরানি সামরিক কর্মকর্তা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, “আমরা সম্পূর্ণ নিজস্ব প্রযুক্তিতে অত্যন্ত আধুনিক ও মারাত্মক কিছু অস্ত্র তৈরি করে রেখেছি। এগুলো এখনো রণক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়নি এবং প্রকৃতপক্ষে এগুলোর কোনো আনুষ্ঠানিক পরীক্ষাও এখনো চালানো হয়নি।” তিনি ইঙ্গিত দেন, প্রয়োজন হলে শত্রুপক্ষকে চমকে দিতে এই গোপন অস্ত্রগুলো সরাসরি আঘাত হানবে।

ইরানি সামরিক উৎসটি জোর দিয়ে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো ধরনের উত্তেজনা বৃদ্ধির জন্য তেহরান সামরিক ও কৌশলগতভাবে পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে। ওয়াশিংটনের হুঙ্কারের জবাবে ওই কর্মকর্তা বলেন, “প্রতিরক্ষা সক্ষমতা এবং আধুনিক সামরিক সরঞ্জামের দিক থেকে আমাদের এমন কোনো ঘাটতি বা সীমাবদ্ধতা নেই, যা আমাদের দেশকে সর্বোচ্চ উপায়ে রক্ষা করতে বাধা দিতে পারে।”

পাশাপাশি মার্কিন প্রশাসনকে কঠোর ও চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দিয়ে ওই কর্মকর্তা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “বিগত দিনগুলোতে আমরা অনেক কৌশলগত ধৈর্য ধারণ করেছি। কিন্তু এবার শত্রুপক্ষ কোনো ভুল করলে আমরা আর কোনো ধরনের সংযম দেখানোর পক্ষপাতী নই। আঘাত এলে পাল্টা আঘাত হবে আরও ভয়াবহ।”

আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হোয়াইট হাউসের ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র লক্ষ্যপূরণের ঘোষণার পর ইরানের এই ‘গোপন অস্ত্রের’ দাবি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ও রহস্যময় করে তুলেছে।

সূত্র: আলজাজিরা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *