পশ্চিমবঙ্গের কয়েক দশকের রাজনৈতিক ঐতিহ্য ভেঙে এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিজয়ী দল বিজেপি। আগামী শনিবার (৯ মে) কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে রাজ্যের নতুন সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান। আজ বুধবার (৬ মে) নবান্নে রাজ্যের মুখ্যসচিবের সাথে বৈঠক শেষে এই ঘোষণা দেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।
রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সাংবাদিকদের জানান, “আগামী শনিবার অর্থাৎ ২৫শে বৈশাখ (৯ মে) সকাল ১০টায় ব্রিগেডে আমাদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।” রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মজয়ন্তীর এই দিনটিকেই শুভ সূচনার জন্য বেছে নিয়েছে পদ্ম শিবির।
পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে এর আগে কোনো মুখ্যমন্ত্রী বা মন্ত্রিসভা ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে শপথ গ্রহণ করেননি। সাধারণত রাজভবনের লনে বা লোক ভবনেই এই আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের সুযোগ করে দিতেই এই বিশাল খোলা ময়দানকে বেছে নিয়েছে বিজেপি। অনেকে একে ‘জনতার সরকার’ হিসেবে তুলে ধরার কৌশল হিসেবেও দেখছেন।
শপথের ঘোষণার পাশাপাশি জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে নতুন মুখ্যমন্ত্রীর নাম নিয়ে। কে হতে চলেছেন বাংলার পরবর্তী কাণ্ডারি, তা নিয়ে দলের অন্দরে চলছে শেষ মুহূর্তের হিসাব-নিকাশ। এদিকে প্রশাসনিক স্তরেও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, নবান্নের পরিবর্তে ঐতিহ্যবাহী ‘মহাকরণ’ (রাইটার্স বিল্ডিংস) থেকেই নতুন সরকার তাদের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে।
ইতিমধ্যেই ব্রিগেডে প্যান্ডেল তৈরি এবং কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনের সাথে সমন্বয় শুরু করেছে বিজেপি নেতৃত্ব। ২৫শে বৈশাখের সকালে ব্রিগেডের এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায় সূচনা করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সূত্র- বিবিসি
