লেবাননের অভ্যন্তরে হিজবুল্লাহর সঙ্গে রানিং সংঘাতের অজুহাতে বেসামরিক নাগরিক ও আবাসিক বাড়িঘরের ওপর ইসরাইলি বিমান হামলাকে সরাসরি ‘যুদ্ধাপরাধ’ (War Crime) হিসেবে আখ্যায়িত করে এর আন্তর্জাতিক তদন্তের জোর আহ্বান জানিয়েছে বিশ্বখ্যাত মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল৷ আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) এক বিশেষ আন্তর্জাতিক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়— লেবাননে চালানো ইসরাইলের এমন কিছু সুনির্দিষ্ট বিমান হামলা রয়েছে, যাতে কোনো ধরনের সতর্কবার্তা ছাড়াই পুরো পরিবার ধুলোয় মিশে গেছে৷ এই বর্বরোচিত হামলাগুলোর নিরপেক্ষ ও আন্তর্জাতিক আইনি তদন্ত হওয়া রানিং পরিস্থিতির নিরিখে অত্যন্ত জরুরি৷
পুরো পরিবার নিশ্চিহ্ন ও শিশুদের নির্মম মৃত্যু: অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মানবাধিকার ও ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন দল গত ৬ থেকে ১৩ মার্চের মধ্যে লেবাননের বেসামরিক ঘরবাড়িতে চালানো তিনটি বড় ধরনের ইসরাইলি বিমান হামলা ও এর ক্ষয়ক্ষতি গভীরভাবে পর্যালোচনা করেছে৷ সংস্থাটির মাঠপর্যায়ের ফরেনসিক রিপোর্টে দেখা গেছে— ওই তিনটি সুনির্দিষ্ট বিমান হামলায় মোট ২৪ জন সম্পূর্ণ নির্দোষ সাধারণ বেসামরিক মানুষ নিহত হন, যার মধ্যে ১২ জনই ছিল নিষ্পাপ শিশু৷
সংস্থাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে অভিযোগ এনেছে যে— এই পৈশাচিক হামলাগুলোতে কোনো বিশেষ ব্যক্তি নয়, বরং পুরো একটি বংশ বা পরিবারকে পৃথিবী থেকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হয়েছে৷ কোনো বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু ছাড়া এভাবে আবাসিক এলাকায় বোমাবর্ষণ আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের চরম লঙ্ঘন এবং এগুলোকে সুস্পষ্ট ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে গণ্য করে বিচারিক তদন্তের আওতায় আনা উচিত৷
ইসরাইলি সেনাবাহিনীর নীরবতা ও রানিং ধোঁয়াশা: অ্যামনেস্টি তাদের বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করেছে— তারা এই বর্বরোচিত হামলাগুলোর বিষয়ে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর (IDF) নীতিগত দপ্তরে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়ে জানতে চেয়েছিল৷ বিশেষ করে ওই তিনটি হামলার মূল সামরিক লক্ষ্য কী ছিল বা কেন সাধারণ মানুষের আবাসিক ভবনে হামলা চালানো হয়েছিল— সে বিষয়ে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের কাছে নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছিল৷ কিন্তু ইসরাইলি সেনাবাহিনী এই হামলার পেছনে কোনো সুনির্দিষ্ট বা সুগ্রথিত তথ্য দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে এক ধরনের রহস্যজনক নীরবতা রানিং রেখেছে৷ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিশ্লেষকরা বলছেন— অ্যামনেস্টির এই নতুন প্রতিবেদন লেবানন সীমান্তে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইসরাইলের ওপর বৈশ্বিক চাপ আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে৷
সূত্র: আলজাজিরা
