শাপলা চত্বরে গণহত্যা মামলা: সাবেক মন্ত্রী দীপু মনি, শাহরিয়ার কবির ও সাবেক আইজিপিসহ ৯ আসামিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মন্ত্রী ডা। দীপু মনিসহ ৯ হাই-প্রোফাইল আসামিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। আজ রোববার (৭ জুন) সকালে কড়া নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে তাদের কারাগার থেকে সরাসরি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নিয়ে আসা হয়।

আদালত সূত্র জানায়, আজ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো। গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্যানেলে এই চাঞ্চল্যকর মামলার প্রথম তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য রয়েছে। ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, গত ১৪ মে ডা। দীপু মনি, সাংবাদিক ফারজানা রূপা এবং মোজাম্মেল বাবুকে মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। আজ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্ধারিত দিন থাকায় এই মামলার এজাহারভুক্ত ৯ আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করেছে পুলিশ। তবে মামলার তদন্ত কাজ এখনও চলমান থাকায় ট্রাইব্যুনালের কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে আরও কিছুটা সময় চেয়ে আবেদন করা হবে বলে জানা গেছে।

মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হেভিওয়েট আসামিরা হলেন— সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা। দীপু মনি, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব।) জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহিদুল হক, পুলিশের সাবেক উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোল্যা নজরুল ইসলাম, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা মণ্ডলীর সভাপতি শাহরিয়ার কবির, সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল, একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক বার্তা প্রধান ফারজানা রূপা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল বাবু।

এর আগে, গত ৭ মে দীপু মনি, ফারজানা রূপা ও মোজাম্মেল বাবুর বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট (হাজিরা পরোয়ানা) জারির আবেদন করেছিল প্রসিকিউশন পক্ষ। ওই দিন ট্রাইব্যুনালে শুনানিতে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম বলেন, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে যখন ইতিহাসের অন্যতম বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়, তখন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন ডা। দীপু মনি। তিনি ঘটনার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর প্রচার চালান যে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কেবল একদল উচ্ছৃঙ্খল মানুষকে সফলভাবে নির্মূল করেছেন। অন্যদিকে, শুরু থেকেই হেফাজতে ইসলামের ওই মহাসমাবেশকে বিতর্কিত করতে এবং এর বিরুদ্ধে একতরফা উসকানিমূলক বক্তব্য ছড়াতে একাত্তর টেলিভিশনের মাধ্যমে কুৎসিত ভূমিকা পালন করেন সাংবাদিক ফারজানা রূপা ও মোজাম্মেল বাবু।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন উইং জানিয়েছে, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হেফাজতের সমাবেশকে ঘিরে ঢাকার মতিঝিলসহ দেশের মোট চারটি স্পটে নির্বিচারে গুলি ও হত্যাযজ্ঞে মোট ৫৮ জন মানুষ নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে দীর্ঘ তদন্তের পর ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা ঢাকায় ৩২ জন, নারায়ণগঞ্জে ২০ জন, চট্টগ্রামে ৫ জন এবং কুমিল্লায় ১ জন নিহতের সুনির্দিষ্ট ও সঠিক পরিচয় শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে। এই মামলার বাকি আসামিদের ধরতেও দেশজুড়ে অভিযান চলছে বলে জানা গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *