সরকারের প্রথম দুই মাসের কার্যক্রম তুলে ধরল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রেস কনফারেন্স –
“সরকারের দুই মাসে প্রধানমন্ত্রীর ৬০টি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ এক অবিস্মরণীয় অর্জন।
আপনারা জানেন যে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে জনগণের ভোটে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারের শপথ গ্রহণের দুই মাস পূর্ণ হয়েছে গতকাল। বিগত দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনের রক্তস্নাত অধ্যায় অতিক্রম করে, গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার পথে জাতিকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি দৃঢ় ও সাহসী নেতৃত্ব দিয়েছেন। দীর্ঘ নির্বাসন শেষে তাঁর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, বিশ্ব রাজনীতির জন্যও একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। সেই সময় থেকেই আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো তাঁকে অবশ্যম্ভাবী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিবেচনা করতে শুরু করে এবং তাঁর নেতৃত্ব, ভিশন ও পলিসি নিয়ে বিস্তৃত ফিচার প্রকাশ করে। গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে অর্জিত নিরঙ্কুশ বিজয়কে দেশি-বিদেশি গণমাধ্যম ও পর্যবেক্ষকরা গণতন্ত্রের পুনরুত্থান ও জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। বিশ্বের প্রায় সকল দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়েছেন, গণতান্ত্রিক সরকারের সাথে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ও সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সাথে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র দুই মাসের মধ্যেই সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে যে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছে, তা দেশে-বিদেশে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হচ্ছে।

আপনারা অবহিত আছেন যে, আমাকে এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব জনাব সালেহ শিবলী-কে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। আমরা আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আজকের এই অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব জনাব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব জনাব আতিকুর রহমান রুমনসহ প্রেস উইংয়ের সকল সম্মানিত সদস্যকে। ব্যক্তিগতভাবে একটি কথা না বললেই নয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপির জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে, গণমাধ্যমের সাংবাদিক ভাই-বোনদের কাছ থেকে যে অকৃত্রিম ভালোবাসা ও সহযোগিতা পেয়েছি, তার জন্য আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। সেই টিমে আমার সাথে কাজ করা জনাব তারিকুল ইসলাম ও জনাব মাহবুব নাহিদ এখনও কাজ করছেন এবং এখানে উপস্থিত আছেন সেই টিমের আরো কেউ কেউ।

সামনের দিনগুলোতেও যে-কোনো ভুল-ত্রটি আপনারা যুক্তিসংগত সমালোচনার মাধ্যমে তুলে ধরবেন এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান ও সরকারের ইতিবাচক উদ্যোগ ও জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপে পাশে থাকবেন, এটিই আমাদের প্রত্যাশা। কারণ আপনাদের সহযোগিতা ও গঠনমূলক সমালোচনাই আমাদের সমৃদ্ধ করে। মুখপাত্র হিসেবে আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কর্মপরিকল্পনা, রাষ্ট্র পরিচালনার নীতিমালা, এবং গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় তাঁর গ্রহণ ও বাস্তবায়িত বিভিন্ন উদ্যোগকে একটি স্বচ্ছ, নিয়মতান্ত্রিক ও ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জনগণের সামনে তুলে ধরা। উল্লেখ্য যে, প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টাগণ নিজ-নিজ দপ্তরসংক্রান্ত বিষয়ে যথারীতি বক্তব্য প্রদান করবেন এবং মাননীয় সংসদ সদস্যবৃন্দ তাঁদের নির্বাচনি এলাকা ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্বাভাবিকভাবেই মতামত তুলে ধরবেন। আমাদের দায়িত্ব মূলত মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে পরিচালিত রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম ও জনগণের কল্যাণে তাঁর নিরলস প্রচেষ্টাকে যথাযথভাবে উপস্থাপন করা।

ফ্যাসিবাদের দীর্ঘ সময় এবং গত প্রায় দেড় বছরের অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে বহুমুখী অপপ্রচারে লিপ্ত থাকলেও, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসংখ্য সচেতন নাগরিক স্বতঃস্ফূর্তভাবে শক্ত অবস্থান নিয়ে এসব মিথ্যাচার ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণার বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। এই জন্য গণতন্ত্রকামী জনগণের পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। আমরা প্রত্যাশা করি, সামনের দিনগুলোতেও এই ইতিবাচক ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে। একইসঙ্গে সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গও নিজ নিজ অবস্থান থেকে তথ্যভিত্তিক বক্তব্য তুলে ধরে অপপ্রচারের বিরুদ্ধে কার্যকর ভূমিকা পালন করবেন। আমরা ভেবেছিলাম, এই অল্প সময়ের মাঝে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্ব ও নির্দেশনায় সরকার যে সমস্ত ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছে, বিরোধী দল সেই কাজের জন্য সামগ্রিকভাবে সহযোগিতা করবে। কিন্তু আমরা দেখলাম, তারা সেটি না করে সংসদে হট্টগোল করা, রাজপথে আন্দোলনের হুমকি, গুজব-অপপ্রচার ছড়ানোসহ বিকল্প পথ বেছে নিয়েছে, যা দেশের অগ্রযাত্রার পথে প্রতিবন্ধকতা।

গভীর আনন্দ ও গৌরবের বিষয়, যা, ইতোমধ্যে আপনারা জেনেছেন যে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও গণমানুষের নেতা জনাব তারেক রহমান এই বছর বিশ্ববিখ্যাত সাময়িকী টাইম-এর বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির তালিকায় স্থান পেয়েছেন। এই স্বীকৃতির মাধ্যমে তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্ব, সীমাহীন সাহসিকতা এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পথে অসামান্য অবদানকে আন্তর্জাতিক পরিসরে স্বীকৃতি দিয়েছে। আজকে টাইম থেকে পাওয়া এই সম্মান আমাদের সকলের। এই বৈশ্বিক স্বীকৃতি গণতন্ত্রের বিজয়, জনতার বিজয়, বাংলাদেশের বিজয়, আলহামদুলিল্লাহ।

উপস্থিত সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা
আমরা সবাই জানি, গতকাল বর্তমান সরকারের মেয়াদ দুই মাস পূর্ণ হয়েছে। এই স্বল্প সময়ের মধ্যেই সরকার নির্বাচনের আগে ইশতেহারে প্রদত্ত প্রতিশ্রুতিসমূহ বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকার দুর্বার গতিতে যেভাবে অভূতপূর্ব কর্মযজ্ঞ হাতে নিয়েছে, প্রতিটি সেক্টরে এবং গণমানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ১৮০ দিনের যে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, তা এক অবিস্মরণীয় অর্জন। জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে গত দুই মাসে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রের ও প্রতিটি নাগরিকের অগ্রযাত্রা নিশ্চিত করতে যেসব কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন, তার মধ্যে ৬০টি আপনাদের সামনে তুলে ধরছি।

সরকারের দুই মাসে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ৬০টি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ-

১। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নারীর ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে দেশের প্রতিটি পরিবারের কাছে পর্যায়ক্রমে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পাইলট প্রকল্প শেষ হয়েছে। ইতোমধ্যে ৩৭,৫৬৭ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হয়েছে। প্রতিটি কার্ডে মাসিক ২,৫০০ নগদ টাকা সহায়তা করা হচ্ছে, যা নারীর অর্থনৈতিক, পারিবারিক ও সামাজিক ক্ষমতায়নের এক আন্তর্জাতিক রোল মডেল।

২। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আরেকটি নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি দেশের কৃষক কৃষাণীর জন্য ১০টি সুবিধা ও নগদ অর্থায়ন সম্বলিত “কৃষক কার্ড” প্রচলন করা। ইতোমধ্যে প্রাথমিকভাবে ১০টি জেলার ২২ হাজারেরও বেশি প্রান্তিক, ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষককে “কৃষক কার্ড” প্রদানের মাধ্যমে এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। মৎস্য, প্রাণী সম্পদের সাথে যারা যুক্ত এবং খামারীরাও এই সুবিধা পাচ্ছেন।

৩। প্রায় ১২ লাখ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে।

৪। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা ও দেশের আইনি কাঠামোর ধারাবাহিকতা রক্ষায়, অত্যন্ত স্বল্প সময়ের মধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিষ্পত্তির মাধ্যমে সরকার সংসদীয় গণতন্ত্রের এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে। এসব অধ্যাদেশের মধ্যে মানবাধিকার কমিশন, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশসহ ১৬টি অধ্যাদেশ অধিকতর যাচাই-বাছাই করে আবার সংসদে বিল আকারে উত্থাপন করা হবে। সবচেয়ে বেশি গুম, খুন, মানবাধিকার হরণের শিকার দল হিসেবে বিএনপি এগুলো বাস্তবায়নে অঙ্গিকারবদ্ধ। এগুলোর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আরও পরামর্শ ও যাচাই-বাছাইয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা বিলেই উল্লেখ করা হয়েছে। সরকারের এ উদ্যোগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন। জুলাই সনদে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ সহ বিএনপি সম্মত হয়ে যেভাবে স্বাক্ষর করেছিল—সেই স্বাক্ষরিত জুলাই সনদকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাস্তবায়নের জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। দেশের মানুষের কাছে বিএনপি যে অঙ্গীকার করেছে এবং যে প্রতিশ্রুতির আলোকে জনগণ ধানের শীষে ভোট দিয়েছে, সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে শুরু করে সবাই তা অক্ষরে-অক্ষরে পালনের জন্য দায়বদ্ধ।

৫। সারাদেশে ২০,০০০ কিলোমিটার নদী-খাল ও জলাশয় খনন ও পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ৫৪ জেলায় এই কাজ”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *