সহিংসতায় ধুঁকছে পশ্চিমবঙ্গ: খুন, ভাঙচুর আর বুলডোজার রাজনীতিতে উত্তাল রাজ্য

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয়ের পর রাজ্যজুড়ে ভয়াবহ সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন জেলায় রাজনৈতিক সংঘর্ষ, গোলাগুলি, অগ্নিসংযোগ এবং খুনের ঘটনায় রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে রাজ্য। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে খোদ পুলিশ কর্মকর্তাও গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

উত্তর ২৪ পরগনার ন্যাজাট থানার ওসি ভরত প্রসূন কর দুই দলের সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। একটি বাড়ির ভেতর থেকে ছোড়া গুলি তাঁর পায়ে লাগে। ঘটনায় আরও এক কনস্টেবল আহত হয়েছেন। তাঁদের কলকাতার চিত্তরঞ্জন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

রাজনৈতিক হত্যা ও রক্তপাত:

  • বীরভূম: নানুরে আবির শেখ নামে এক তৃণমূল কর্মীকে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ উঠেছে দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে।
  • হাওড়া: উদয়নারায়ণপুরে যাদব বর (৪৮) নামে এক বিজেপি কর্মীকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। জয়ের আনন্দে আবির খেলার পরই তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়।
  • ডোমকল: শফিকুল ইসলাম নামে এক সিপিএম কর্মীকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছে। গলার নিচে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তিনি বর্তমানে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসাধীন।

তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন একটি ভিডিও পোস্ট করে অভিযোগ করেছেন যে, মধ্য কলকাতায় পুলিশের উপস্থিতিতেই বুলডোজার দিয়ে দোকান ভাঙচুর করেছে বিজেপি সমর্থকরা। অন্যদিকে, জিয়াগঞ্জের শ্রীপত সিংহ কলেজে লেনিনের আবক্ষ মূর্তি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিয়ে একদল যুবক হাতুড়ি ও রড নিয়ে মূর্তিটি ভেঙে ফেলে এবং সেখানে শিবাজি বা গোপাল পাঁঠার মূর্তি বসানোর ঘোষণা দেয়।

স্বরূপনগরের জয়ী তৃণমূল প্রার্থী বীণা মণ্ডলের বাড়িতে হামলা চালিয়ে গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন, ফল প্রকাশের পর থেকে ৩০০-৪০০ পার্টি অফিস এবং ১৫০ প্রার্থীর বাড়িতে হামলা হয়েছে। তিনি এই পরিস্থিতিকে বিজেপির ‘ভয়াবহ মডেল’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

রাজ্যজুড়ে অস্থিরতার মধ্যে বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য দলের কর্মীদের শান্ত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, “জয়ের আনন্দে কাউকে আঘাত করবেন না।” একইসঙ্গে তিনি মুখ্যসচিবকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে বলেছেন, প্রশাসন যেন যেকোনো ধরণের অপরাধীর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়।

রাজ্যের বর্তমান উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিভিন্ন স্পর্শকাতর এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী।

সূত্র : আনন্দবাজার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *