সৌদি আরব নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের সাম্প্রতিক কঠোর হুঁশিয়ারি ও হুমকি সংবলিত যৌথ বিবৃতিকে তাদের গভীর রাজনৈতিক, সামরিক দুর্বলতা এবং চরম মানসিক বিভ্রান্তির জীবন্ত প্রমাণ বলে তীব্র মন্তব্য করেছেন ইয়েমেনের শক্তিশালী প্রতিরোধ আন্দোলন হুথি আনসারুল্লাহর শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যুরোর অন্যতম প্রভাবশালী সদস্য মোহাম্মদ আল-ফারাহ৷ ইয়েমেনের রাজধানী সানায় এক বিশেষ প্রেস ব্রিফিংয়ে সৌদি আরবের রাজতান্ত্রিক সরকারকে এক হাত নেন এই হুথি নীতিনির্ধারক৷
রিয়াদের হুমকি ও হুথিদের পাল্টা জবাব: এর আগে ইয়েমেনে মোতায়েন থাকা সৌদি নেতৃত্বাধীন বহুজাতিক সামরিক জোটের পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক সামরিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়৷ সেখানে ঘোষণা করা হয় যে— যদি ইয়েমেনের ভেতর থেকে কেউ সৌদি আরব, তাদের সাধারণ নাগরিক, গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক বা খনিজ স্থাপনা কিংবা ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে কোনো ধরণের নতুন হামলা বা হুমকির চেষ্টা করে, তবে সৌদি জোট পূর্বের যেকোনো সময়ের চেয়ে আরও অনেক বেশি কঠোর, আধুনিক ও বিধ্বংসী সামরিক শক্তি দিয়ে এর দাঁতভাঙা জবাব দেবে৷
সৌদি জোটের এই সর্বাত্মক সামরিক হুঁশিয়ারির কড়া জবাব দিয়ে হুথি নেতা মোহাম্মদ আল-ফারাহ বলেন— “সৌদি জোটের এই আকস্মিক বিবৃতি মূলত প্রমাণ করে যে, এই আগ্রাসী জোটের কাছে এখন ইয়েমেনিদের বীরোচিত প্রতিরোধের সামনে আর কোনো কার্যকর সামরিক পন্থা বা কৌশল অবশিষ্ট নেই৷ তাদের কেবল ফাঁকা হুমকি দেওয়ার দুর্বল ভাষাটুকুই এখন বাকি আছে৷”
১১ বছরের যুদ্ধ ও ব্যর্থতার খতিয়ান: মোহাম্মদ আল-ফারাহ তাঁর বিবৃতিতে আরও দাবি করেন— দীর্ঘ ১১ বছর ধরে ইয়েমেনের ওপর অমানবিক অবরোধ, নির্বিচার বিমান যুদ্ধ, পাইকারি হারে গণহত্যা, কৃত্রিম অনাহার তৈরি এবং আন্তর্জাতিক লবিংয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করেও সৌদি জোট তাদের কাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে৷ তবুও তারা এখনো আন্তর্জাতিক মহলে তথাকথিত ‘বৈধ সরকার’-এর পুরনো ভাঙা রেকর্ড ও দাবিকে অন্ধের মতো আঁকড়ে ধরে আছে, যার কোনো বাস্তব ভিত্তি ইয়েমেনের মাটিতে নেই৷
আল-ফারাহ স্পষ্ট অভিযোগ এনে বলেন— “এই দীর্ঘ ১১ বছরে হাজার হাজার নিরপরাধ মানুষ হত্যা, অনাহার, বাণিজ্যিক অবরোধ, বিদেশি ভাড়াটে ব্ল্যাকওয়াটার বাহিনীর পেছনে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের অপচয় এবং নিজেদের আন্তর্জাতিক বিশ্বাসযোগ্যতা চিরতরে হারানো ছাড়া রিয়াদ ও তার দোসরদের কোনো অর্জন নেই৷” তাঁর তীব্র অভিযোগ— সৌদি জোট এখন মধ্যপ্রাচ্যে টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে ‘শান্তি রোডম্যাপ’ বা পিস প্রসেসকে একটি সস্তা অজুহাত হিসেবে বিশ্ববাসীর সামনে ব্যবহার করছে এবং ইয়েমেনের প্রকৃত অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমাধানকে ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্বিত করছে৷
তিনি আরও জোর দিয়ে দাবি করেন— ইয়েমেনের সানার বর্তমান হুথি রাজনৈতিক নেতৃত্ব সৌদি জোটের যেকোনো কঠোর অর্থনৈতিক ও সামরিক অবরোধের বিরুদ্ধে একেবারে নতুন এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তির প্রতিরোধ কৌশল তৈরি করতে সক্ষম হওয়ায় সৌদি প্রশাসন বর্তমানে চরম আন্তর্জাতিক মনস্তাত্ত্বিক চাপে পড়েছে৷ হুথিদের এই রানিং সামরিক আত্মবিশ্বাস লোহিত সাগর ও মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক ভূ-রাজনীতিকে এক নতুন সমীকরণের দিকে নিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকেরা৷
সূত্র: আলমায়াদিন
